শুধু মানিকই নন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দু’জনের নামই ওই চার্জশিটে রয়েছে।

মানিক ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 7 November 2025 14:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিক শিক্ষা নিয়োগ (Primary Recruitment Scam) দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের (Manik Bhattacharya) বিরুদ্ধে সিবিআই (CBI) যে চার্জশিট দিয়েছে, তার জন্য এখনও পর্যন্ত রাজভবনের (Governor) অনুমোদন পাওয়া যায়নি। শুক্রবার বিচার ভবনে এই তথ্য আদালতকে জানিয়েছে তদন্তকারী সংস্থা। শুধু মানিকই নন, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সচিব রত্না চক্রবর্তী বাগচীর ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। দু’জনের নামই ওই চার্জশিটে রয়েছে। সঙ্গে আছেন বীরভূমের নলহাটির প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাস অধিকারীও।
নিয়ম মোতাবেক, কোনও সরকারি পদাধিকারীর বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়ার আগে রাজভবনের অনুমোদন নেওয়া বাধ্যতামূলক। কারণ, সরকারি পদে থাকা অবস্থায় কোনও অপরাধের অভিযোগের ক্ষেত্রে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে সাংবিধানিক অনুমোদন লাগে। মানিক ভট্টাচার্য তখন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি ছিলেন, রত্না ছিলেন পর্ষদের সচিব।
গত বছরের অক্টোবরে প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় চার্জশিট দাখিল করে সিবিআই। দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের অধীনে চার্জশিট জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেতে তিন মাস সময়সীমা থাকে। সেই মেয়াদ এখনও শেষ হয়নি। ফলে, আপাতত অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে সিবিআই।
উল্লেখ্য, নিয়োগ দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসতেই কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে পর্ষদের সভাপতির পদ হারান মানিক ভট্টাচার্য। পরে তাঁকে গ্রেফতার করে সিবিআই। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত মানিক। রত্না চক্রবর্তী বাগচী এবং বিভাস অধিকারীকেও একাধিকবার তলব করেছে সিবিআই।
কয়েক মাস আগে নয়ডা থেকে বিভাস অধিকারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। অভিযোগ, তিনি ভুয়ো অফিস খুলে প্রতারণা করছিলেন— যার নাম রাখা হয়েছিল ইন্টারন্যাশনাল পুলিশ অ্যান্ড ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন। ওই মামলায় বিভাসের ছেলে অর্ঘ্য অধিকারী-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়।
রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং পর্ষদের অপসারিত সভাপতি মানিকের গ্রেফতারির পর উঠে এসেছিল বিভাসের নামও। এক সময় বেসরকারি বিএড এবং ডিএলএড কলেজ সংগঠনের সভাপতি ছিলেন বীরভূমের নলহাটির ওই বাসিন্দা। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি মানিকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলেও পরিচিত ছিলেন তিনি। ইডি-সিবিআইয়ের ডাকে বেশ কয়েক বার হাজিরা দিতে হয়েছিল তাঁকে। সম্প্রতি উত্তরপ্রদেশের নয়ডায় ভুয়ো অফিস খুলে প্রতারণাচক্র চালানোর অভিযোগে গ্রেফতার হন তিনি।
মানিকের গ্রেফতারির পর পরেই ইডি আধিকারিকেরা উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিলেন। সেই ফ্ল্যাটের সঙ্গে বিভাসের যোগ রয়েছে বলে দাবি করেছিল ইডি। তল্লাশি অভিযানের পর সেই ফ্ল্যাট সিলও করে দেওয়া হয়। তার আগে বীরভূমে বিভাসের বাড়ি এবং আশ্রমে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই।