
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও প্রধানমন্ত্রী মোদী।
শেষ আপডেট: 20 May 2024 14:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দেশজুড়ে চলছে লোকসভার পঞ্চম দফা ভোট। তারই মধ্যে কেন্দ্রের নয়া পেনশন নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামলেন রেলকর্মীরা।
সোমবার বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরের মঞ্চ থেকে রেলকর্মীদের ওই আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদীর কড়া সমালোচনায় সরব হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মমতা বলেন, "বলেছিল ৫ বছরে ১০ কোটি লোককে চাকরি দেবে। একটা লোককেও চাকরি দেয়নি। উল্টে রেলের পেনশনও তুলে দিয়েছে। রেলকর্মীদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানাচ্ছি।"
বিজেপিকে ফের 'চাকরি খেকে বাঘ' এর সঙ্গে তুলনা করে মমতা বলেন, "কেন্দ্রীয় সরকারের সব কিছু বিক্রি করে দিচ্ছে। চাকরি দিতে পারে না, উল্টে খেযে নেয়। আমার ১০ লক্ষ চাকরি রেডি রয়েছে। দিতে গেলেই ওরা কোর্টে চলে যাচ্ছে।"
প্রসঙ্গত কেন্দ্রের নয়া পেনশন প্রকল্প নিয়ে ভীষণ অসন্তুষ্ট রেলের একাধিক কর্মী সংগঠন। তাঁদের দাবি, অবিলম্বে পুরনো পেনশন স্কিম চালু করতে হবে।
অল ইন্ডিয়া রেলওয়ে মেনস ফেডারেশন-এর তরফে বলা হয়েছে, পুরনো পেনশন স্কিম অনেক বেশি ভরসাযোগ্য। তাই নয়া পেনশন স্কিম তুলে দিয়ে সেটাকেই ফিরিয়ে আনতে হবে। এই নিয়ে একাধিকবার দাবি করা হলেও এতদিনে কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলেই অভিযোগ। তাই এবার আন্দোলনের সিদ্ধান্ত।
পুরনো পেনশন স্কিমে মোট বেতনের ৫০ শতাংশ অর্থ নিশ্চিতভাবে পাওয়া যেত। কিন্তু ২০০৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যে নতুন পেনশন স্কিম এসেছে সেখানে টাকা পেতে গেলে বাজারের ওপর নির্ভর করতে হবে। তাই অবসরের পর ঠিক কত টাকা পাওয়া যাবে তা নিশ্চিতভাবে আগে থেকে বোঝা যাবে না। রেল কর্মীদের মতে, নয়া পেনশন স্কিম হল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
মমতার অভিযোগ, বড়লোকদের সুবিধে করে দিতে গিয়ে রেলের মতো লাভজনক সরকারি সংস্থাকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে মোদী সরকার।
রবিবার বিষ্ণুপুরের সভা থেকে মোদী রেলের সম্প্রসারণ বোঝাতে বন্দে ভারতের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। এদিন মমতা বলেন, "উনি তো পুরনো ট্রেন রঙ করে বন্দে ভারত এক্সপ্রেস করেছেন। আমার তৈরি করে দেওয়া দুরন্ত এক্সপ্রেস কোথায় গেল। তার তো টিকিও পাচ্ছি না। এটা তারই নকল নয় তো?"