কালীপুজোয় বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হন পুরুলিয়ার প্রতাপপুরের রমেশ মাঝি। পরে তাঁর দেহ উদ্ধার হয় ওড়িশার কটকের কাছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 19 October 2025 08:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কালীপুজো উপলক্ষে গোয়া থেকে বাড়ি ফিরছিলেন, কিন্তু সেই ফেরা আর হল না। পুরুলিয়ার মানবাজার এলাকার প্রতাপপুর গ্রামের বাসিন্দা, ২৬ বছর বয়সী পরিযায়ী শ্রমিক রমেশ মাঝির পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে ওড়িশার কটকের কাছে। পরিবারের দাবি, ট্রেনেই তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে এবং এরপর দেহ ফেলে দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় গোটা এলাকায় গভীর শোক ও রহস্য সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, দেড় বছর আগে রমেশ মাঝি তাঁর মেজো দাদা রাজেশ মাঝির সঙ্গে গোয়া গিয়েছিলেন কাজ করতে। গত সোমবার শেষবার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়। তিনি পরিবারকে জানান, ট্রেনে বাড়ির পথে রওনা দিয়েছেন। এর পর থেকেই রমেশের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন যে, ওড়িশার কটকের কাছে একটি পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছে, যা রমেশ মাঝির। ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে শোকে ভেঙে পড়েন বাবা মঙ্গল মাঝি। তিনি দাবি করেন, তাঁর ছেলেকে খুন করা হয়েছে।
মঙ্গল মাঝি জানান, সোমবার শেষ কথা হওয়ার পরে তিনি মেজো ছেলে রাজেশের কাছ থেকে জানতে পারেন, ট্রেনে কয়েকজন তাঁর ছোট ছেলে রমেশকে ঘিরে ধরে ব্যাগ দেখতে চেয়েছিল। সেই সময়েই রমেশ তাঁর দাদাকে ফোন করেছিলেন। এরপরই কটক থেকে রমেশের পচাগলা দেহ উদ্ধারের খবর আসে। তিনি এই রহস্যজনক মৃত্যুর উপযুক্ত ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এদিন সন্ধ্যায় খবর পেয়ে মানবাজারে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব রমেশের বাড়িতে যান। স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডু দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। মন্ত্রী বলেন, "দেহ ওড়িশা থেকে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মানবাজার থানা থেকেও পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তদন্ত নিয়ে ওড়িশাতেও খোঁজ খবর করা হচ্ছে।"