শুনানিতে এদিন কড়া সুরে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে তোপ দাগে সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের প্রশ্ন, “আপনারা কি এখনও অযোগ্যদের বাঁচিয়ে যোগ্যদের বাদ দিতে চাইছেন? এটা লজ্জাজনক।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 21 August 2025 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসএসসি নিয়োগ (SSC Recruitment) পরীক্ষা ঘিরে বড় স্বস্তির বার্তা পেলেন ‘যোগ্য’ চাকরিপ্রার্থীরা। নিয়ম মেনে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে ক্লাস করাতে হচ্ছে তাঁদের। এর মাঝেই আগামী সেপ্টেম্বরের ৭ ও ১৪ তারিখে নতুন পরীক্ষা দেওয়ার কথা থাকায় প্রস্তুতিতে সমস্যায় পড়েছিলেন তাঁরা। তাই পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়ার আর্জি জানান প্রার্থীরা। বৃহস্পতিবার সেই আবেদনে শীর্ষ আদালতের Supreme Court() বিচারপতি সঞ্জয় কুমার ও সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে— চাইলে রাজ্য সরকার পরীক্ষা পিছিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি চাকরিতে কর্মরত শিক্ষকদের ফর্ম ফিল-আপের জন্য সাতদিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছে। ফলে খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন প্রার্থীরা।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ (SSC Scam) প্রক্রিয়াকে গত এপ্রিল মাসে ‘প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি’ বলে বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ফলে রাতারাতি চাকরি হারান প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক-অশিক্ষক। আদালত নির্দেশ দেয়, নতুন পরীক্ষা নিয়ে তাঁদের পুনর্নিয়োগ করতে হবে। সেই অনুযায়ী রাজ্য সরকার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং আগামী ৭ ও ১৪ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার দিন ধার্য করে। তবে সরকার আদালতে জানিয়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা সচল রাখতে যোগ্য প্রার্থীদের ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে পড়ানো চালিয়ে যেতে হবে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রতিদিন পড়ানো সামলে পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব নয় বলে বৃহস্পতিবারের শুনানিতে পরীক্ষা স্থগিত রাখার আবেদন করেন চাকরিপ্রার্থীরা। তাঁদের আরও দাবি— স্নাতকস্তরে ৪৫ শতাংশ নম্বরপ্রাপ্ত শিক্ষকদেরও নতুন নিয়োগ পরীক্ষায় বসার সুযোগ দিতে হবে। কারণ, নতুন বিজ্ঞপ্তিতে এনসিইআরটি (NCERT)-এর নিয়ম মেনে ৫০ শতাংশ নম্বর বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। প্রার্থীদের যুক্তি, ২০১৬ সালের পরীক্ষার মতো এবারও ৪৫ শতাংশ নম্বরই যথেষ্ট হওয়া উচিত।
শুনানিতে এদিন কড়া সুরে স্কুল সার্ভিস কমিশনকে তোপ দাগে সুপ্রিম কোর্ট। কমিশনের আইনজীবীর উদ্দেশে বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের প্রশ্ন, “আপনারা কি এখনও অযোগ্যদের বাঁচিয়ে যোগ্যদের বাদ দিতে চাইছেন? এটা লজ্জাজনক। আমরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছি, কোনওভাবেই অযোগ্য প্রার্থীরা পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। যাঁরা যোগ্য হিসেবে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্কুলে পড়াচ্ছেন, তাঁদের সকলকেই পরীক্ষার সুযোগ দিতে হবে।”
বেঞ্চ এও মন্তব্য করে, চাইলে রাজ্য সরকার পরীক্ষার দিন পিছিয়ে দিতে পারে। সেই মন্তব্যে আপাতত আশার আলো দেখছেন যোগ্য চাকরিপ্রার্থীরা।