SSC 2016 নিয়োগ মামলায় বড় ধাক্কা। সুপ্রিম কোর্ট রিভিউ পিটিশন খারিজ করে জানাল, নিয়োগ প্রক্রিয়া বৈধ নয়। প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিল।

কেন খারিজ হল রিভিউ পিটিশন?
শেষ আপডেট: 19 August 2025 22:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের বহুল আলোচিত ২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (এসএসসি) শিক্ষক নিয়োগ মামলায় ফের বড় ধাক্কা খেলেন চাকরিহারা প্রার্থীরা ও রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট সমস্ত রিভিউ পিটিশন খারিজ করে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে—এই নিয়োগ প্রক্রিয়া আর বৈধ নয়। প্রায় ২৬ হাজার চাকরি বাতিলের হাই কোর্টের রায়ই বহাল রইল।
কেন খারিজ হল রিভিউ পিটিশন?
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিয়োগ প্রক্রিয়ার মূল ত্রুটি ছিল ওএমআর শিট সংরক্ষণে এসএসসির (SSC) ব্যর্থতা। কমিশন পরীক্ষার আসল উত্তরপত্র বা অন্তত তার প্রতিলিপি (মিরর কপি) রাখেনি। এর ফলে নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও বেআইনি কার্যকলাপকে আড়াল করার চেষ্টা তদন্তকে আরও জটিল করেছে।
শীর্ষ আদালত মন্তব্য করেছে, এসব অব্যবস্থার জেরে পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া (selection process) দুর্নীতিগ্রস্ত ও অবিশ্বস্ত হয়ে পড়েছে। তাই নিয়োগের পবিত্রতা রক্ষা করতে পুরো প্রক্রিয়াকেই বাতিল করা ছাড়া আর কোনও পথ খোলা ছিল না।
আদালতের কড়া মন্তব্য করে জানিয়েছে, অযোগ্য ও যোগ্য উভয়ের ক্ষতি হলেও প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা রক্ষা করা অগ্রাধিকার। আদালত স্বীকার করেছে, এতে এমন অনেকে প্রার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন যাঁরা কলঙ্কিত নন (আনটেইন্টেড)। তাঁদের মনে বেদনা ও ক্ষোভ সৃষ্টি হবে। তবুও নিয়োগ প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা রক্ষা করাই সর্বাধিক জরুরি।
সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট বলেছে, যে সমস্ত কর্তৃপক্ষ এই দুর্নীতির জন্য দায়ী, তাঁদের বিরুদ্ধে আদালতের কড়া মন্তব্য একেবারেই ন্যায্য। তাঁদের গাফিলতির ফলেই হাজার হাজার প্রার্থীর জীবন বিপর্যস্ত হয়েছে।
শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, রিভিউ পিটিশনের মাধ্যমে আবার গোটা মামলাটিকে নতুন করে শোনার সুযোগ দেওয়া যায় না। ইতিমধ্যেই সব দিক বিশদে খতিয়ে দেখা হয়েছে। ফলে আর শুনানির প্রয়োজন নেই।
মঙ্গলবার বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ আবেদনকারীদের আইনজীবী মেনকা গোস্বামীর প্রশ্নের উত্তরে জানায়—“আমরা ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সব আবেদন খারিজ।” এর মধ্য দিয়ে কার্যত শেষ হয়ে গেল প্রার্থীদের সব আইনি পথ। অর্থাৎ প্রায় ২৫,৭৩৫ জন প্রার্থীর চাকরি বাতিল হয়ে গেল। যোগ্য ও অযোগ্য—দু’ধরনের প্রার্থীর উপরই এর অনিবার্য প্রভাব পড়েছে। বহু স্কুলে শিক্ষক শূন্যপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন অনিশ্চয়তা আনতে পারে।
২০১৬ সালের শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর কলকাতা হাই কোর্ট পুরো প্রক্রিয়াকেই বাতিল ঘোষণা করে। রাজ্য সরকার, এসএসসি এবং নিয়োগ পাওয়া একাধিক প্রার্থী সেই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিল। এ বছরের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টও হাই কোর্টের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। তবে কিছুটা সুরাহার আশায় চাকরি হারানো প্রার্থীরা ও রাজ্য সরকার রিভিউ পিটিশন দায়ের করেন। কিন্তু মঙ্গলবারের রায়ে সেই আশা একেবারেই শেষ হয়ে গেল।