স্ত্রী ও সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে সল্টলেকে আই-প্যাকের দফতরে পৌঁছলেন প্রতীক জৈন। ইডির তল্লাশির আবহে এই উপস্থিতি ঘিরে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহলে বাড়ছে কৌতূহল।

প্রতীক জৈন
শেষ আপডেট: 8 January 2026 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আই-প্যাকে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছেন ইডি আধিকারিকরা। বেরিয়ে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উগরে দিলেন ক্ষোভ। এবার সেখানেই স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে পৌঁছলেন সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈন।
বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎ-ই একটি পুরনো কয়লা পাচারের মামলায় কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালায় ইডি। বেলা বাড়তে জানা যায়, তালিকায় রয়েছে আইপ্যাকের কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Ipac Prateek Jain) বাড়ি ও আই-প্যাকের কলকাতা অফিস।
এর খবর পাওয়া মাত্রই সেখানে পৌঁছন পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এরপরে সল্টলেকে আই-প্যাকের অফিসেও যান তাঁরা কারণ সেখানেও চলছিল অভিযান। রাজ্য-রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়।
প্রায় বেলা ১১টার পর শুরু হওয়া এই অভিযান শেষ করে প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) বাড়ি থেকে দুপুর ২টো ৪৫ নাগাদ বেরিয়ে যান কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। একটি গাড়িতে ইডি অফিসাররা এবং অন্য একটি গাড়িতে ছিলেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।
ইডি অফিসারেরা বেরিয়ে যাওয়ার পর বাড়ি থেকে বের হন প্রতীক জৈনও। কালো কাচে ঢাকা গাড়ির ভিতর পর্দা লাগানো ছিল। বেরিয়ে যাওয়ার সময় তিনি সাংবাদিকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দেননি। পরে জানা যায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে বেরিয়েছেন তিনি এবং পৌঁছচ্ছেন আই-প্যাকের অফিসেই।
বিকেল সাড়ে ৪টে নাগাদ খবর আসে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সল্টলেকের ওই অফিস থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক পরই তাঁরা সেখান উপস্থিত হন। এখনও আধিকারিকরা অফিসে রয়েছেন। স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে সেখানে গেলেন কেন, সে কারণ স্পষ্ট নয়।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (West Bengal Election) পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভাবনীয় উত্থানের পর তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলগত কাজে যুক্ত হন প্রশান্ত কিশোর (PK)। তাঁর সংস্থা আই-প্যাক (ipac kolkata office) পরবর্তী দু’বছর রাজ্যে সক্রিয় ভাবে কাজ করে (ipac west bengal)। এর ফল দেখা যায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হন (Mamata Banerjee)। এই জয়ের পিছনে আই-প্যাকের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর নিজে ভোটকুশলীর ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও ২০২২ সালে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতি ঘটে, আই-প্যাকের সঙ্গে দলের যোগাযোগ কিন্তু ভাঙেনি। এখনও শাসক দল ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে চলেছে ওই সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের পাশে ছিল আই-প্যাক (pratik jain ipac)। সেই ভোটে রাজ্যে বিজেপিকে অনেকটাই পেছনে ফেলে ২৯টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল। উঠে আসে প্রতীক জৈনের নাম।
এবার তাঁর সংস্থাতে এভাবে ইডি অভিযানে উঠছে একাধিক প্রশ্ন।