বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুপুর বারোটা নাগাদ যখন সেই অভিযান চলছিল, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 8 January 2026 13:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে (West Bengal Election) পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির অভাবনীয় উত্থানের পর তৃণমূল কংগ্রেসের কৌশলগত কাজে যুক্ত হন প্রশান্ত কিশোর (PK)। তাঁর সংস্থা আইপ্যাক (ipac kolkata office) পরবর্তী দু’বছর রাজ্যে সক্রিয় ভাবে কাজ করে (ipac west bengal)। এর ফল দেখা যায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ২১৩টি আসনে জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় টানা তৃতীয় বার মুখ্যমন্ত্রী হন (Mamata Banerjee)। এই জয়ের পিছনে আইপ্যাকের অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিধানসভা ভোট শেষ হওয়ার পর প্রশান্ত কিশোর নিজে ভোটকুশলীর ভূমিকা থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও ২০২২ সালে তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্কের ইতি ঘটে, আইপ্যাকের সঙ্গে দলের যোগাযোগ কিন্তু ভাঙেনি। এখনও শাসক দল ও রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করে চলেছে ওই সংস্থা। তারই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের পাশে ছিল আইপ্যাক (pratik jain ipac)। সেই ভোটে রাজ্যে বিজেপিকে অনেকটাই পেছনে ফেলে ২৯টি আসনে জয় ছিনিয়ে নেয় তৃণমূল কংগ্রেস।
এই আইপ্যাকেরই কর্ণধার প্রতীক জৈন (pratik jain)। বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই আইপ্যাকের অফিস এবং প্রতীকের বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। দুপুর বারোটা নাগাদ যখন সেই অভিযান চলছিল, ঠিক সেই সময় আচমকাই সেখানে পৌঁছে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। জানা যায়, মুখ্যমন্ত্রী আসার কয়েক মিনিট আগেই ওই বাড়িতে উপস্থিত হন কলকাতা পুলিশের কমিশনার মনোজ ভার্মাও (Manoj Verma)।
প্রতীকের বাড়িতে অল্প কিছুক্ষণ থাকার পরই বেরিয়ে আসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন তাঁর হাতে দেখা যায় একটি সবুজ রঙের ফাইল। বাইরে এসে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছিল।
তিনি জানান, সেই নথিগুলিই তিনি সঙ্গে করে নিয়ে এসেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে (Amit Shah) কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি দেশ চালাতে ব্যর্থ, অথচ তাঁর দলের নথি বাজেয়াপ্ত করানোর চেষ্টা চলছে। মমতার দাবি, প্রতীক তাঁর দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি এবং তাঁকে ফোন করেই তিনি পুরো বিষয়টি জানতে পারেন। পাশাপাশি তাঁর অভিযোগ, তল্লাশির সময় হার্ড ডিস্ক ও মোবাইল ফোনও নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল।
ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতীকের লাউডন স্ট্রিট থেকে থেকে বেরিয়ে সল্টলেকে আইপ্যাকের দফতরে পৌঁছে গিয়েছেন। সেখানে উপস্থিত হয়েছেন রাজ্যপুলিশের ডিজি রাজীব কুমারও।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লাউডন স্ট্রিটে যাওয়াকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে, এই পদক্ষেপ সম্পূর্ণ অনৈতিক। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দেন, তদন্ত বা ইডি-র তল্লাশি সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনও মন্তব্য করতে চান না।
শুভেন্দু জানান, তদন্তের বিষয়বস্তু নিয়ে তিনি কথা বলবেন না, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে সাংবিধানিক সংস্থার কাজে হস্তক্ষেপ করার অভিযোগ আগেও উঠেছে। তাঁর দাবি, ২০২১ সালে ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায় ও মদন মিত্রকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে মমতা সিবিআইয়ের নিজাম প্যালেস দফতরের সামনে ধর্নায় বসেছিলেন। একইভাবে রাজীব কুমারের বাড়িতে সিবিআই তল্লাশির সময়েও তিনি তৎকালীন পুলিশ কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে ধর্না দিয়েছিলেন।