ইডি হানাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতায় আইপ্যাকের অফিসে হানা দেয় ইডি (ED raids I PAC)। পাশাপাশি সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতেও শুরু হয় তল্লাশি। সেই খবর ছড়াতেই পরিস্থিতি আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রতীক জৈনের বাড়িতে পৌঁছন কলকাতা পুলিশের কমিশনার (CP)। তার পর সেখানে যান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুললেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে মুখ্যমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনার হস্তক্ষেপ করেছেন। শুভেন্দু বলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর এই আচরণ অনৈতিক, অসাংবিধানিক এবং কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার কাজে বাধা দান। এর আগেও রাজীব কুমারের সময় মুখ্যমন্ত্রী এই কাণ্ড করেছিলেন। ফিরহাদ হাকিমদের সময়ও করেছিলেন। এটা ওনার অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই নিয়ে তিনবার হস্তক্ষেপ করলেন, এরপরও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না করলে মানুষের কাছে ভুল বার্তা যাবে বলে আমি মনে করি।"
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনার জন্য মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশ কমিশনার—দু’জনের বিরুদ্ধেই পদক্ষেপ করা উচিত (Demands action)। আমি মনে করি ইডি নিজেদের ক্ষমতাবলে যথাযথ পদক্ষেপ করবে।”
এদিনের ইডি হানাকে ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে তরজা শুরু হয়েছে। ভোটের মুখে বিজেপি কেন্দ্রীয তদন্তকারী সংস্থাকে দলীয় স্বার্থে করছে বলে সরব হয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সরাসরি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশানা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাসটি হোম মিনিস্টার, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।' "তারা আমার দলের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদি আমি বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাই তাহলে কী হবে?"
যার জবাবে শুভেন্দু রাজ্যের বিরুদ্ধেই প্রতিহিংসার অভিযোগ এনেছেন। শুভেন্দু বলেন, "আমার বাড়িতে সিআইডি পাঠিয়েছিলেন। আমার প্রবীণ মা,বাবাকে হেনস্থা করেছেন। আসামী খোঁজার নামে নন্দীগ্রাম পার্টি অফিসে তল্লাশি চালিয়ে সব কিছু তছনছ করেছেন। ওনার মুখে প্রতিহিংসার কথা মানায় না।"
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে লাউডন স্ট্রিটে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের বাংলোয় সিবিআই হানা দিয়েছিল। খবর পেয়েই সে দিনও সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রীয় তদন্তের প্রতিবাদে পরে ধর্মতলায় ধর্নাতেও বসেছিলেন তিনি। ছ’ বছর পর যেন ইতিহাসেরই পুনরাবৃত্তি। এ বার কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হানা পড়ল রাজ্য সরকারের পরামর্শদাতা সংস্থার কর্ণধারের বাড়িতে। আর ঘটনাচক্রে, সেই সময়ও সেখানে সশরীরে হাজির হলেন মুখ্যমন্ত্রী। যা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী দলনেতা।