দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ, তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী লাইডন স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁর আসার কয়েক মিনিট আগেই সেখানে উপস্থিত হন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির অবস্থান জানতে চান এবং তার পর ভিতরে প্রবেশ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 8 January 2026 13:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের (Ipac) কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Prateek Jain) লাইডন স্ট্রিটের বাড়িতে চলা কয়লা পাচার কাণ্ডে (Coal Smuggling Case) ইডি তল্লাশির (ED Raid Ipac Office) মধ্যেই বৃহস্পতিবার দুপুরে আচমকা সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। সকাল থেকেই ওই বাড়ি এবং সল্টলেকের আইপ্যাক দফতরে (Ipac Kolkata Office) কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অভিযান চলছে।
দুপুর প্রায় ১২টা নাগাদ, তল্লাশি চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী লাইডন স্ট্রিটে পৌঁছন। তাঁর আসার কয়েক মিনিট আগেই সেখানে উপস্থিত হন কলকাতার পুলিশ কমিশনার মনোজ বর্মা (CP Manoj Verma)। মুখ্যমন্ত্রী গাড়ি থেকে নেমে বাড়ির অবস্থান জানতে চান এবং তার পর ভিতরে প্রবেশ করেন। এরপর একটি ল্যাপটপ এবং ফাইল নিয়ে প্রতীকের বাড়ি থেকে বেরিয়ে আইপ্যাকের অফিসেও যান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মন্ত্রী সুজিত বসু, তৃণমূল নেত্রী কৃষ্ণা চক্রবর্তী।
ইডির তল্লাশি (ED Raid) চলাকালীনই আইপ্যাকের অফিস (Ipac Kolkata Office) থেকে একাধিক ফাইল নীচে নামিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর গাড়ির পিছনে লোড করা হয়। তবে সেগুলি কীসের ফাইল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এদিকে, ব়্যাফ নামিয়েছে পুলিশ আর ইডি পরিস্থিতি সামাল দিতে আরও কেন্দ্রীয় বাহিনী চেয়েছে। সব মিলিয়ে ইডির এই তল্লাশি অভিযানে টানটান উত্তেজনা।
প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দেন ইডি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, তল্লাশির নামে তাঁর দলের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বাজেয়াপ্ত করা হচ্ছিল। তিনি বলেন, “ওরা আমার দলের সমস্ত নথিপত্র নিয়ে নিচ্ছিল। আমি সেগুলি উদ্ধার করে নিয়ে এসেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশ চালাতে পারছেন না, তাই আমার দলের কাগজপত্র বাজেয়াপ্ত করাচ্ছেন।”
অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানায় এনে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।' "তারা আমার দলের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদি আমি বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাই তাহলে কী হবে?" এসআইআর (SIR) ইস্যুতেও আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেন, "এসআইআর করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে।" 'কাউকে কিছু জিজ্ঞেস করছে না, শুধু হোয়াটস অ্যাপেই সব কাজ চালাচ্ছে।' কমিশনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ আনেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
সূত্রে জানা যাচ্ছে, কয়েক বছর আগে এই মামলার তদন্তে ঝাড়খণ্ড (Jharkhand) এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালানো হয়েছিল। সেই সময় কয়লা পাচার মামলায় অনুপ মাঝি ওরফে লালাকে দিল্লিতে ডেকে একাধিকবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারীরা। শুধু অনুপ মাঝিই নন, এই মামলার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে আরও বেশ কয়েকজনকে জেরা করা হয়। পাশাপাশি টাকার লেনদেন (Money Trail) সংক্রান্ত একাধিক নথি খতিয়ে দেখেন ইডির আধিকারিকরা।
ইডি বা আইপ্যাকের তরফে এখনও পর্যন্ত এই ঘটনার বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।