যতক্ষণ তল্লাশি চলবে ততক্ষণ তিনি আইপ্যাকের অফিসের সামনেই বসে থাকবেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:48
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ৩৮ মিনিট। ৪৫ মিনিট পর আইপ্যাকের (I-PAC) অফিস থেকে বেরোলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ভিতরে এখনও তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।
বাইরে এসে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "আমি মনে করি এটা একটা ক্রাইম। মার্ডার অফ ডেমোক্রেসি। আমাদের সব নির্বাচনী কাগজ চুরি করা হয়েছে।" এরপরই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, "আমি সৌজন্যতা দেখাব। কিন্তু এটা আমার দুর্বলতা ভাবলে ভুল করবেন। আমার সব আপনি লুট করবেন আর আমি কি চুপ করে বসে থাকব?"
মুখ্যমন্ত্রী জানান, "আইপ্যাকের অফিস থেকে কী কী নথি লুট হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ইডির বিরুদ্ধে এফআইআর করা হবে।"
অমিত শাহকে নিশানা করে বলেন, "হিম্মত থাকলে রাজনৈতিকভাবে লড়াই করুন। তা না করে ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি চুরি করছেন? এবার আমি যদি বিজেপির অফিসে তল্লাশি করি? সেটা কি ঠিক হবে?"
বিজেপিকে 'ডাকাতের দল' আখ্যা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, "রাজনৈতিকভাবে লড়াই করার সাহস নেই, তাই ইডিকে দিয়ে আমাদের ভোটের স্ট্র্যাটেজি ছিনতাই করল। আমাদের সব কাগজ, তথ্য লুট করেছে।" যতক্ষণ তল্লাশি চলবে ততক্ষণ তিনি আইপ্যাকের অফিসের সামনেই বসে থাকবেন বলেও জানান।
মমতার অভিযোগ, ভোর ছ’টা থেকে এই অভিযান শুরু করা হয়, এমন সময়ে যখন অফিসে প্রায় কেউই ছিলেন না। “ইলেকশন আর এসআইআর সংক্রান্ত আমাদের সমস্ত রাজনৈতিক ডেটা ওরা চুরি করেছে। এটা একটা অপরাধ। আইপ্যাক কোনও প্রাইভেট অর্গানাইজেশন নয়, এটা তৃণমূলের অথরাইজড টিম। সেই টিমের কাজ থেকে সব কাগজ ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। টেবিল ফাঁকা করে দিয়েছে। আবার নতুন করে সব করতে গেলে ইলেকশনই পেরিয়ে যাবে,” বলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “আপনাদের অফিসে যদি আমরা এ ভাবে ঢুকি, তা হলে আপনারা কি মেনে নেবেন?” মমতার দাবি, যদি কোনও তথ্যের প্রয়োজন থাকত, তবে ইডি বা আয়কর দফতর থেকেই তা সংগ্রহ করা যেত। তাঁর কটাক্ষ, “বিজেপিই দেশের সবচেয়ে বড় ডাকাত।”
এদিন সকালে ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাক (I-PAC)-এর কর্ণধার প্রতীক জৈন (Prateek Jain)-এর বাড়ি ও দফতরে একযোগে হানা দেয় এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। সল্টলেক (Salt Lake)-এ আইপ্যাকের দফতর এবং লাউডন স্ট্রিটে (Loudon Street) প্রতীক জৈনের বাড়িতে শুরু হয় তল্লাশি। ইডি সূত্রে খবর, দিল্লির (Delhi) একটি পুরনো কয়লা পাচার (Coal Smuggling) মামলার সূত্র ধরেই এই অভিযান।
সেই খবর পেয়ে প্রথমে প্রতীক জৈনের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশ কমিশনার মনোজ ভার্মা (CP Manoj Verma)। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকের সামনে ইডি হানা (I PAC ED Raid) নিয়ে কেন্দ্রকে নিশানা করেন মুখ্যমন্ত্রী।
অমিত শাহকে (Amit Shah) নিশানায় এনে কড়া ভাষায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, 'নটি হোম মিনিস্টার, ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, যিনি দেশকে রক্ষা করতে পারেন না।' "তারা আমার দলের সব তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। যদি আমি বিজেপির দলীয় কার্যালয়ে তল্লাশি চালাই তাহলে কী হবে?"
এসআইআর (SIR) ইস্যুতেও আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। দাবি করেন, "এসআইআর করে বাংলার মানুষের নাম বাদ দেওয়া হচ্ছে। ২ কোটি মানুষের মধ্যে প্রায় দেড় কোটি মানুষকে শুনানিতে ডাকছে। ৫৪ লক্ষ মানুষের নাম বাদ পড়েছে। তারপরও বুঝতে পারছে, ওরা জিততে পারবে না, তাই আমাদের স্ট্র্যাটেজি চুরি করা হল।"