তীব্র বর্ষায় প্রতি বছর ঘাটালের এই জলবন্দি দশা যেন এক অভ্যস্ত ছবি। কিন্তু তা বলে মৃতদেহ ভেলায় ভাসিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া? মানবিকতার প্রশ্নে সেই দৃশ্যেই যেন ফুটে উঠছে বাস্তবের নির্মমতা।

ভাইরাল ভিডিও-র অংশবিশেষ। গ্রাফিক্স-দিব্যেন্দু দাস।
শেষ আপডেট: 4 August 2025 13:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চারিদিকে জল থই থই। তারই মধ্যে প্রিয়জনের মৃত্যু। অগত্যা, শেষকৃত্যে ভরসা বলতে কলার ভেলা! মৃত্যুর পরেও ঘাটালের (Ghatal) জলবন্দি অবস্থার সাক্ষী হয়ে রইল এক মর্মান্তিক ছবি।
রবিবার রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ প্রয়াত হলেন ঘাটাল পুরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মনসা চৌধুরী। প্রয়াত ওয়ার্ড কাউন্সিলর কানহাইয়ালাল চৌধুরীর স্ত্রী তিনি। মৃত্যুর পর, বানভাসি ঘাটালে (Flood) শ্মশানযাত্রা হল কলার ভেলায় (Crematorium on banana rafts) ভাসিয়ে—যা নিয়ে ছড়িয়ে পড়েছে চরম বিতর্ক।
গ্রামের এক প্রান্তে রয়েছে শ্মশান। মাঝখানে শুধুই জল আর জল। রাস্তাঘাট সব ডুবে। ফলত, দেহ নিয়ে যাওয়ার একমাত্র উপায় ছিল ভেলা। আত্মীয়স্বজনরা সেই পথেই শ্মশানের উদ্দেশে রওনা দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয় সেই করুণ দৃশ্য। আর সেই ছবি ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর।
ঘাটালের এই জলযন্ত্রণা ও দেহ পরিবহণের এমন দুরবস্থা নিয়ে রাজ্যের শাসকদলের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক শীতল কপাট। তাঁর বক্তব্য, “ইলেকট্রিক চুল্লি তৈরির কাজ এখনও অসম্পূর্ণ। কোটি কোটি টাকা মাস্টার প্ল্যানের নামে খরচ হলেও বাস্তবে তার ছিটেফোঁটাও পৌঁছচ্ছে না সাধারণ মানুষের কাছে। চেয়ারম্যান কী করছেন?”
তবে দেহ ভেলায় ভাসিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে নিয়ে অন্য ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঘাটাল সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল সভাপতি অজিত মাইতি। তিনি বলেন, “এটা ঐতিহ্যবাহী রীতি। আত্মীয়রা নিজেরাই নৌকা বা ভেলা ব্যবহার করে দেহ নিয়ে গিয়েছেন। এর সঙ্গে কোনও অব্যবস্থার যোগ নেই।”
তবে প্রশ্ন উঠছে—ঠিক কোথায় রয়েছে এমন রেওয়াজ? ঘাটালের একাধিক এলাকা যেমন পান্না, ঘিসোরা, ধান্যঘরা আজও জলের তলায়। যোগাযোগের একমাত্র উপায় সরকারি খেয়া বা স্থানীয়দের ডিঙি নৌকা। এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।
তীব্র বর্ষায় প্রতি বছর ঘাটালের এই জলবন্দি দশা যেন এক অভ্যস্ত ছবি। কিন্তু তা বলে মৃতদেহ ভেলায় ভাসিয়ে শ্মশানে নিয়ে যাওয়া? মানবিকতার প্রশ্নে সেই দৃশ্যেই যেন ফুটে উঠছে বাস্তবের নির্মমতা।