প্রথম দিকে পুলিশ নিষ্ক্রিয় কেন - এই প্রশ্ন উঠতেই জেলা পুলিশের তরফে জানানো হয়, সকাল থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। তবে হঠাৎ লাঠিচার্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই তখনই শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 January 2026 14:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নতুন করে উত্তেজনা, অবরোধ ও বিক্ষোভ - দু’দিন ধরে কার্যত অগ্নিগর্ভ মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা (Beldanga Incident)। শুক্রবারের পর শনিবারও সকাল থেকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদীদের (Beldanga Protest) তাণ্ডব চলে বলে অভিযোগ। বিরোধীদের দাবি ছিল, প্রথমদিকে পুলিশ কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা নেয়। তবে শনিবার পরিস্থিতি হাতের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হতেই অ্যাকশনে নামে পুলিশ (West Bengal Police)।
শনিবার সকাল থেকে উত্তেজনা (Beldanga Unrest) ছড়াতেই এসপি-র নেতৃত্বে বেলডাঙায় নামানো হয় র্যাফ (RAF)। অবরোধ তুলতে শুরু হয় অভিযান, চালানো হয় ধরপাকড়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কয়েকজন প্রতিবাদীর উপর লাঠিচার্জও (Lathicharge) করা হয়। পুলিশের দাবি, আপাতত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। সাময়িকভাবে রাস্তা ও রেল অবরোধ হলেও বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
পুলিশের ব্যাখ্যা
প্রথম দিকে পুলিশ নিষ্ক্রিয় কেন - এই প্রশ্ন উঠতেই জেলা পুলিশের (SP) তরফে জানানো হয়, সকাল থেকেই পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। তবে হঠাৎ লাঠিচার্জ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলেই তখনই শক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। পুলিশের দাবি, যখন বোঝা যায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে, তখনই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিক নিগ্রহ, গাড়ি ভাঙচুর-সহ অশান্তির ঘটনায় যারা জড়িত, তাদের চিহ্নিত করে গ্রেফতার করা হবে। পুলিশি অভিযান চলবে বলেও স্পষ্ট জানানো হয়েছে।
কেন এই বিক্ষোভ
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার বেলডাঙায় (Beldanga Incident) উত্তেজনার সূত্রপাত। মৃতদেহ গ্রামে ফিরতেই জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন সুজাপুর–কুমারপুর এলাকার বাসিন্দারা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে এলাকা। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় নতুন করে তেতে ওঠে পরিস্থিতি।
পরপর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতিকে মারধরের ঘটনার পর শনিবার আক্রান্ত হন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও চিত্রসাংবাদিক।
বিধায়কের সামনেই বিক্ষোভ
পরিস্থিতি সামাল দিতে শনিবার ঘটনাস্থলে পৌঁছন ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক (সাসপেন্ডেড) হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই বিক্ষোভের মুখে পড়েন তিনি। উত্তেজিত জনতার সঙ্গে শুরু হয় তর্কাতর্কি। হুমায়ুন কবীর বারবার অবরোধ তুলে নেওয়ার আবেদন জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাতে সাড়া দেননি।
বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে বিধায়ক বলেন, “তোমাদের পাশে আমরা আছি। কিন্তু হঠকারিতা করলে চলবে না। এভাবে সমস্যা মেটে না।” তিনি আরও বলেন, সরকারের বিরুদ্ধেও তাঁদের আপত্তি রয়েছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলা তৈরি করে পরিস্থিতি আরও খারাপ করা হবে।
হুঁশিয়ারির সুরে হুমায়ুন কবীর জানান, অবরোধ ও ভাঙচুর চলতে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে এবং তার মাশুল দিতে হবে সাধারণ মানুষকেই। দ্রুত শান্তি ফেরানোর বার্তাই দিয়েছেন তিনি।
এখনও এলাকায় টানটান উত্তেজনা রয়েছে। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।