ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga incident) ।

বেলডাঙায় অশান্তি
শেষ আপডেট: 17 January 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবারের পরিস্থিতি থিতু হয়েছে কি হয়নি, এর মধ্যে শনিবারও ফের উত্তপ্ত উঠল বেলডাঙা (Beldanga)। নতুন করে উত্তেজনা, অবরোধ, বিক্ষোভে আপাতত বন্ধ লালগোলা সেকশনের (Lalgola Train) ট্রেন চলাচল। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী এসে পৌঁছেছে (Beldanga News)। তারপরও গাড়ি ভাঙচুর করা হয় পরপর। শুধু তাই নয়, গতকাল জি ২৪ ঘণ্টার সাংবাদিক সোমা মাইতিকে মারধর করা হয়েছিল। শনিবার আক্রান্ত হলেন এবিপি আনন্দের সাংবাদিক পার্থপ্রতিম ঘোষ ও চিত্রসাংবাদিকও।
ঝাড়খণ্ডে মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) এক পরিযায়ী শ্রমিকের (Migrant Worker) রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে শুক্রবার অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে বেলডাঙা (Beldanga incident) । মৃতদেহ গ্রামে ফেরার পরেই শুক্রবার সকাল থেকে জাতীয় সড়ক অবরোধ ও রেল রোকো কর্মসূচিতে নামেন গ্রামবাসীরা। দোষীদের শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে সুজাপুর–কুমারপুর এলাকার মানুষজন। পরিস্থিতি সামাল দিতে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে শনিবার আরও এক শ্রমিককে মারধরের ঘটনায় নতুন করে তেতে উঠল বেলডাঙা (Beldanga violence)।
দিন চারেক আগে বিহারে ফেরিওয়ালার (Bihar) কাজ নিয়ে গিয়েছিলেন বেলডাঙার মকদমপুরের বাসিন্দা আনিসুর রহমান। এলাকারই আরও সাতজনের সঙ্গে সেখানে ঘরভাড়া করে ছিল সে। অভিযোগ, বাংলাদেশি সন্দেহে আনিসুরকে বেপরোয়া মারধর করে ওই এলাকার কিছু মানুষ। শুক্রবার রাতে কোনওরকমে প্রাণ হাতে করে ঘরে ফেরেন তিনি। জানা গিয়েছে শনিবার সকালে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখে ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।
স্থানীয় মানুষজন জানান, মাত্র চারদিন আগে বিহারে কাজে গিয়েছিলেন ওই তরুণ। বাংলাদেশি সন্দেহে তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বাড়ি ফিরে ওই তরুণ জানান, তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে তাঁর সঙ্গীরাও আক্রান্ত হন। তবে আনিসুরের চোটই গুরুতর।
বেলডাঙার সুজাপুর কুমারপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আলাউদ্দিন শেখ ফেরিওয়ালার কাজের সূত্রে ঝাড়খণ্ডে গিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার ঝাড়খণ্ডে তাঁর ঘর থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানতে পারে পরিবার। এলাকায় এই খবর আসতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় গোটা এলাকা। পরে পুলিশের তৎপরতায় পরিস্থিতি তখনকার মতো নিয়ন্ত্রণে আসে। রাত পোহাতেই ফের ভিনরাজ্য শ্রমিক নিগ্রহের খবর পেয়ে পথে নামেন এলাকার মানুষ।