২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার মধ্যে তাঁকে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও রায়হান বাড়িতে না থাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতেই নোটিস ধরিয়ে এসেছে পুলিশ।

হুমায়ুন কবীর
শেষ আপডেট: 26 February 2026 17:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রাজনীতির ‘দাপুটে’ চরিত্র হুমায়ুন কবীরের (Humayun Kabir) অস্বস্তি কি আরও বাড়ল? হেরোইন পাচার মামলায় এ বার বিধায়কের জামাই রায়হান আলিকে তলব করল লালগোলা পুলিশ (Police)। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি বেলা ১১টার মধ্যে তাঁকে তদন্তকারী অফিসারের সামনে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও রায়হান বাড়িতে না থাকায় তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতেই নোটিস ধরিয়ে এসেছে পুলিশ।
সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত ও তদন্তের জাল
পুলিশ সূত্রে খবর, রায়হান আলির বিরুদ্ধে নারকোটিকস বা মাদক আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযোগ, মাদক পাচারের কারবারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন হুমায়ুন-জামাতা (Humayun Kabir son in law)। এই তদন্তের সূত্র ধরেই গত ৮ এবং ৯ ফেব্রুয়ারি পুলিশি তৎপরতা তুঙ্গে ওঠে। রায়হান, তাঁর বাবা শরিফুল ইসলাম এবং হুমায়ুন-কন্যা নাজমা সুলতানার প্রায় ১৫ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। গোয়েন্দাদের দাবি, মাদক কারবারের অর্থে কেনা অন্তত ১১টি স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হদিশ মিলেছে, যা ইতিমধ্যেই বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।
‘ষড়যন্ত্র’ বনাম ‘হুমকি’
জামাইয়ের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ নস্যাৎ করে দিয়ে একে ‘গভীর ষড়যন্ত্র’ বলে দাগিয়ে দিয়েছেন বর্তমানে ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’র চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর। তাঁর দাবি, “মাত্র চার দিন আগে রায়হানকে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি লালগোলা আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার টোপও দেওয়া হয়।” হুমায়ুনের বক্তব্য, সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার কারণেই তাঁর জামাইকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হচ্ছে।
বিধায়ক সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, রায়হান এই মামলায় কোনও আগাম জামিনের আবেদন করবেন না। এমনকি ২৮ তারিখ তিনি থানাতেও হাজিরা দেবেন না। কার্যত হুঙ্কারের সুরে হুমায়ুন বলেন, “রায়হানের সঙ্গে মাদক পাচারের কোনও যোগ নেই। তাঁকে যদি গ্রেফতার করা হয়, তবে তার ফল কিন্তু ভাল হবে না।”
বস্তুত, বিধানসভা ভোটের মুখে তৃণমূল থেকে সাসপেন্ড হওয়ার পর, নতুন দল করে ভোটে লড়ার ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন কবীর। 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' গঠন করেছেন ভরতপুরের বিধায়ক। ক'দিন আগেই দ্য ওয়ালকে ভরতপুরের বিধায়ক জানিয়েছেন, তিনি বামেদের সঙ্গে জোট করবেন না। করলে মহম্মদ সেলিমের সঙ্গেই অর্থাৎ সিপিএম-এর সঙ্গেই জোট করবেন। শুরুতে সিপিএম, আইএসএফ-এর সঙ্গে জোটের তোড়জোড় করলেও, হুমায়ুনের জোট প্রস্তাব কার্যত বিশ বাঁও জলে।