জামাতের সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, “যদি আমার জামাতের সঙ্গে এত যোগাযোগ থাকে, তা হলে নিশ্চয়ই প্রচুর টাকা আছে। সেই টাকা দিয়েই শুভেন্দুর বিয়ে দেব।”
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 18 February 2026 15:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার ভোটের আগে (West Bengal Elections 2026) নতুন রাজনৈতিক দল ঘোষণার পর থেকেই বিতর্কের কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। তাঁর ‘জনতা উন্নয়ন পার্টি’ নাম ঘোষণার পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) কটাক্ষ করে বলেন, দলের নাম হওয়া উচিত ‘জামাত উন্নয়ন পার্টি’। তাঁর অভিযোগ ছিল, বাংলাদেশের জামাতের (Bangladesh Jamaat) সঙ্গে সমন্বয় করতেই নাকি এই রাজনৈতিক উদ্যোগ। সেই মন্তব্য ঘিরেই তপ্ত হয়েছে রাজ্য রাজনীতি।
এই প্রেক্ষাপটে দ্য ওয়ালের (The Wall News) একান্ত সাক্ষাৎকারে হুমায়ুন কবীর পাল্টা আক্রমণের বদলে বেছে নিলেন ব্যঙ্গের পথ। তাঁর কথায়, “শুভেন্দু পাগলের প্রলাপ বকছেন। ওর একটা বিয়ে দেওয়া দরকার। রাতে বউয়ের কাছ থেকে ভালো বুদ্ধি পেলে সকালে আর ভুলভাল বলবেন না।” এখানেই থামেননি তিনি। রসিকতার সুরে আরও বলেন, শুভেন্দুর বিয়ের সমস্ত খরচ তিনিই বহন করতে রাজি।
জামাতের সঙ্গে আর্থিক যোগসূত্রের অভিযোগ নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, “যদি আমার জামাতের সঙ্গে এত যোগাযোগ থাকে, তা হলে নিশ্চয়ই প্রচুর টাকা আছে। সেই টাকা দিয়েই শুভেন্দুর বিয়ে দেব।” একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন - দেশে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা রয়েছে, তাঁর অ্যাকাউন্টে বিদেশ থেকে টাকা এলে তা প্রমাণ করে দেখাক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রসঙ্গত, এর আগে সংখ্যালঘু বিধায়কদের বিধানসভা থেকে ‘চ্যাংদোলা করে বের করে দেওয়া’ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন শুভেন্দু। সেই বক্তব্যের জবাবে হুমায়ুন কার্যত সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। তাঁর দাবি, তিনি নিজের দলের ৯০ জন বিধায়ক নিয়ে বিধানসভায় প্রবেশ করবেন। তিনি এ-ও বলেন, শুভেন্দু বা শিশির অধিকারী - কারও ক্ষমতা নেই তাঁকে আটকানোর।
নিজের রাজনৈতিক রূপরেখাও স্পষ্ট করেছেন হুমায়ুন কবীর। তিনি জানিয়েছেন, রেজিনগর ও বেলডাঙা - এই দুই কেন্দ্র থেকে তিনি প্রার্থী হবেন। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বিরুদ্ধে মহিলা প্রার্থী দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করেছেন। তাঁর দাবি, সেই প্রার্থী হবেন ব্রাহ্মণ।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে লক্ষ্য করেই কৌশল সাজাচ্ছেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, অন্তত ৯০টি আসনে জয়লাভ করাই লক্ষ্য। কারণ তাঁর আশঙ্কা, তৃণমূল বা বিজেপি - যে দলই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসুক না কেন, তাঁর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিকল্পনায় বাধা সৃষ্টি হতে পারে। তাই ক্ষমতার ভারসাম্য নিজেদের হাতে রাখতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসন জেতা জরুরি বলেই মনে করছেন তিনি।
সব মিলিয়ে, নতুন দল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক তরজা চরমে। কটাক্ষ, পাল্টা কটাক্ষ এবং আগামী নির্বাচনের হিসাব—রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ যে আরও বাড়বে, তা বলাই বাহুল্য।