এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেতারা। পাল্টা কটাক্ষ করেন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।

ডেরেককে চ্যাংদোলা করে সরানোর ছবি
শেষ আপডেট: 9 January 2026 12:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতায় আইপ্যাকের অফিস (I-PAC ED Raid) ও প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডির (ED Raid) তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে রাজধানীতেও। শুক্রবার ভোরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের (Amit Shah) দফতরের সামনে অবস্থান বিক্ষোভে বসেন তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) আট জন সাংসদ। সেই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করেই দিল্লিতে চরম উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পুলিশের সঙ্গে তৃণমূল সাংসদদের ধস্তাধস্তি বেঁধে যায়। শেষ পর্যন্ত সাংসদদের আটক করে টেনে-হিঁচড়ে ও চ্যাংদোলা করে পুলিশের গাড়িতে তোলা হয়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিজেপির (BJP) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূল নেতারা। পাল্টা কটাক্ষ করেন বিজেপি সাংসদ ও কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
এ দিন সকালে অমিত শাহের (Amit Shah) দফতরের বাইরে ধর্নায় বসেন তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাকেত গোখলে, বাপি হালদার, শতাব্দী রায়, মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ, প্রতিমা মণ্ডল ও শর্মিলা সরকার। তাঁদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড। তাতে লেখা ছিল— ‘মোদী, শাহ ও ইডি জেনে রাখো, যতই হামলা করো, বাংলা আবার জিতবে।’
আইপ্যাকের অফিসে ইডির তল্লাশি নিয়ে প্রশ্ন তুলে সরব হন তৃণমূল সাংসদরা (TMC MP)। পুলিশ তাঁদের সেখান থেকে সরাতে গেলে শুরু হয় বচসা, যা দ্রুত ধস্তাধস্তিতে গড়ায়। একে একে সাংসদদের তুলে নিয়ে গিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশের আচরণের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তৃণমূল সাংসদ প্রতিমা মণ্ডল বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলাম। কিন্তু অমিত শাহের অধীন পুলিশ আমাদের ওপর অত্যাচার করেছে, মারধর করেছে।” বিজেপিকে নিশানা করে তাঁর অভিযোগ, “ওরা লুটেরার দল। বাংলার মানুষের ভোট পায় না বলেই আমাদের রাজনৈতিক কৌশল চুরি করতে ইডিকে ব্যবহার করছে।” মহুয়া মৈত্র বলেন, “একজন নির্বাচিত সাংসদের সঙ্গে দিল্লি পুলিশ কী আচরণ করছে, তা গোটা দেশ দেখছে। বিজেপিকে আমরা হারাবই।”
দিল্লিতে তৃণমূল সাংসদদের থানায় নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ উগরে দেন দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, ‘গণতন্ত্রকে শাস্তি দেওয়া হচ্ছে, অপরাধীদের পুরস্কৃত করা হচ্ছে। তদন্তকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানো হচ্ছে, নির্বাচনকে প্রভাবিত করা হচ্ছে।’ একই সঙ্গে তাঁর সংযোজন, ‘প্রতিবাদীদের জেলে পাঠানো হচ্ছে, ধর্ষকরা জামিন পাচ্ছে— বিজেপির নতুন ভারত এটাই।’ শেষ পর্যন্ত বাংলার লড়াইয়ের কথাই তুলে ধরে অভিষেক লেখেন, ‘দেশের অন্য অংশকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করা হলেও বাংলা লড়াই চালিয়ে যাবে। বিজেপিকে বাংলায় হারানো হবেই।’
অন্যদিকে, শাহের দফতরের সামনে তৃণমূল সাংসদদের ধর্না নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি সুকান্ত মজুমদার। তিনি বলেন, “দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সামনে ধর্না দেওয়া কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সেখানে সরকারি কর্মচারী ও আধিকারিকদের ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এতে দেশের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।” নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে সাধারণ আন্দোলন করতে গেলেই আমাদের পুলিশ তুলে নিয়ে যায়। আমি নিজে এক রাত লালবাজারে বেঞ্চে বসে কাটিয়েছি।” তৃণমূল সাংসদদের উদ্দেশে তাঁর কটাক্ষ, “আজ তাঁরা গণতন্ত্রের কথা বলছেন। পুরনো ভিডিওগুলো একবার দেখে নিলেই ভাল হবে।”