সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটি কর্মসংস্থানের আশায় পৌঁছে গিয়েছিল ডোমজুড়ে। সেখানে যে তার জন্য ফাঁদ পাতা ছিল তা বুঝতে পারেননি তিনি।

শেষ আপডেট: 9 June 2025 13:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমানে স্থিতিশীল পানিহাটির নির্যাতিতা। কিন্তু তাঁর দেওয়া অত্যাচারের বিবরণ শুনে বাকরুদ্ধ দুঁদে গোয়েন্দারাও। চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, নির্যাতিতার গোপনাঙ্গে গভীর ক্ষত রয়েছে। আঘাত রয়েছে মাথাতেও। হাওড়ার বাসিন্দা অভিযুক্ত মা-ছেলে পলাতক। তারা বিদেশে পালিয়ে গিয়েছে বলে তদন্তকারীদের অনুমান।
ঘটনার সূত্রপাত ডিসেম্বর, ২০২৪ সালে। সোদপুর সুখচরের বাসিন্দা ওই তরুণীর সঙ্গে হাওড়ার ডোমজুরের বাসিন্দা আরিয়ান খানের পরিচয় হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। কিছু দিনের আলাপচারিতার পর ডিসেম্বর মাসে আরিয়ান তরুণীকে জানায়, সে বিভিন্ন ইভেন্ট কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত। তাকে কাজ দেবে বলে ডাকে হাওড়ায়।
সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েটি কর্মসংস্থানের আশায় পৌঁছে গিয়েছিল ডোমজুড়ে। সেখানে যে তার জন্য ফাঁদ পাতা ছিল তা বুঝতে পারেননি তিনি। তরুণীর অভিযোগ, ডোমজুরের বাঁকড়া ফকিরপাড়ার বাসিন্দা আরিয়ান খান ও তাঁর মা শ্বেতা খান তাঁকে বাড়িতে আটকে রাখে। কেড়ে নেওয়া হয় তাঁর মোবাইল। এরপরই আরিয়ান জানিয়ে দেয়—কোনও ইভেন্ট নেই, এখন থেকে তাকে পানশালায় নাচতে হবে।
আরিয়ানের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় শুরু হয় নরকযন্ত্রণা। তরুণী আপত্তি করায় শুরু হয় অকথ্য শারীরিক নির্যাতন। রড, দা, লাঠি দিয়ে একাধিকবার মারধর করা হয়। তার গায়ে অসংখ্য জখমের চিহ্ন রয়েছে। তার মাথার চুল কেটে দেওয়া হয়, অভিযোগ তার গোপনাঙ্গে রড ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। সে চিৎকার করলে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার প্রায় ছ’মাস পর, শুক্রবার ভোররাতে বাড়ির একটি সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার সুযোগ নিয়ে পালিয়ে খড়দহে নিজের বাড়িতে ফেরেন তরুণী। তাঁকে প্রথমে বলরাম হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে সেখান থেকে স্থানান্তরিত করা হয় সাগরদত্ত মেডিকেল কলেজে। এরপরই তরুণী আরিয়ান খান ও তার মা শ্বেতা খানের বিরুদ্ধে খড়দহ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের আড়ালে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা চালাত মা ছেলে। প্রোডাকশন হাউজ করে পর্নোগ্রাফির ব্যবসা চালাত তারা। পুলিশ সক্রিয় হয়েছে বুঝতে পেরেই গা ঢাকা দেয় মা ছেলে।
প্রাথমিকভাবে তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শ্বেতা খান ও আরিয়ান খান বছরে একাধিকবার বিদেশে যান। শ্বেতা মাঝেমধ্যে ব্যাঙ্ককে যেতেন। ব্যাঙ্ককে শ্বেতার কী যোগাযোগ, সেটা জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা। কাদের সঙ্গে শ্বেতা ব্যাঙ্ককে যেতেন, কেন যেতেন, এই সবটাই তদন্তকারীদের আতশ কাচের নীচে। এখনও পর্যন্ত তাঁদের খোঁজ না মেলায় পুলিশ মনে করছে, ছেলে আরিয়ানকে নিয়ে বিদেশে চলে গিয়েছেন শ্বেতা। বিশেষ টিম তৈরি করে চলছে তল্লাশি।
একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে এক তরুণী মাসের পর মাস ধরে নিরুদ্দেশ থাকলেও কোনও প্রতিবেশী বা আত্মীয় সন্দেহ করেননি? আর যে এলাকাতে এমন অমানবিক ঘটনা ঘটল, সেখানেও কেন প্রশাসনের গোচরে এল না বিষয়টি?