তিনি আরও জানান, “কাউকে হতাশ হতে বলব না। বিষয়টি আমরা মানবিকভাবে দেখছি। ৫৬ হাজার শিক্ষকের পদ এখনও খালি রয়েছে। দু’তিন মাসের মধ্যেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। এরপর গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি নিয়োগ হবে।”
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 4 September 2025 13:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৬-র শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতিতে (Recruitment Corruption Case) দাগি অভিযুক্তদের জন্য বন্ধ পরীক্ষার দরজা। সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যাঁদের নাম কালো তালিকায় রয়েছে, তাঁরা আর নতুন করে পরীক্ষায় বসতে পারবেন না। এই রায় যখন রাজ্যের হাজার হাজার চাকরি হারানো শিক্ষক-শিক্ষিকার কাঁধে ঘোর অনিশ্চয়তার বোঝা চাপিয়েছে, ঠিক সেই সময়েই শিক্ষক দিবসের প্রাক্কালে তাঁদের উদ্দেশে বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)।
বৃহস্পতিবার, কলকাতার ধনধান্য প্রেক্ষাগৃহে ‘শিক্ষারত্ন’ সম্মান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী জানান, “যাঁদের চাকরি চলে গিয়েছে, যাঁরা শিক্ষক হতে পারবেন না, তাঁদের গ্রুপ সি-তে সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আমরা আইনি পরামর্শ নিচ্ছি।”
তাঁর সুরে সহানুভূতি স্পষ্ট। বলেন, “আমি কাউকে হতাশ হতে বলব না। বিষয়টি আমরা মানবিক ভাবে দেখছি। নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। আগামী দু’-তিন মাসের মধ্যে সেই কাজ শেষ হবে বলে আশা করছি। তার পরেই গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডি নিয়োগ শুরু হবে।”
একই সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন এও জানান, রাজ্যে এখনও ৫৬ হাজারের বেশি শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩৫,৭২৬টি পদের বিজ্ঞপ্তি ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। বাকি ২১ হাজার নিয়োগ প্রক্রিয়া এখনও হাতে রয়েছে। তারই মধ্যে নিয়োগ নিয়ে আইনি জটিলতা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে বলেও অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রীর।
নাম না করে বিরোধীদের কটাক্ষ করে মমতার মন্তব্য, “আমরা নিয়োগ করতে গেলেই কেউ না কেউ কোর্টে গিয়ে স্টে করিয়ে দেয়। এক সেকেন্ডে স্টে হয়ে যায়, অথচ হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ ঝুলে যায়। চাকরি হারানো মানুষগুলোর জন্য আমার খারাপ লাগে। আপনারা কী ভাবছেন, আমি এতে খুশি? না, একেবারেই না।”
মমতা আরও জানান, যাঁদের চাকরি বাতিল হয়েছে, অথচ যাঁরা ‘আনটেন্ডেড’ অর্থাৎ স্পষ্টভাবে কোনও দুর্নীতির অভিযোগে নাম নেই, তাঁদের জন্য ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রে বয়সে ছাড় দেওয়া হচ্ছে, এবং অভিজ্ঞতাকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
তবে যাঁরা শিক্ষকের চাকরিতে ফিরতে পারবেন না, তাঁদের জন্য বিকল্প রাস্তাও ভাবা হচ্ছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। “গ্রুপ সি-তে তাঁদের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা আইন মেনেই খতিয়ে দেখা হচ্ছে,” বলেন তিনি।
শিক্ষারত্ন সম্মানপ্রাপ্ত শিক্ষকদের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “শুধু পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞান নয়, নৈতিকতা আর মূল্যবোধও শেখান ছাত্রছাত্রীদের। তাহলেই আগামী প্রজন্ম সঠিক পথে এগোবে।”
দুর্নীতির অভিযোগে চাকরি বাতিল, আদালতের রায়, তার জেরে ভবিষ্যৎ বিপন্ন প্রজন্ম—এই জটিল আবহে মুখ্যমন্ত্রীর বৃহস্পতিবারের বার্তা অনেকের কাছেই এক নতুন দিশা দেখাচ্ছে। তবে সেই দিশা আদৌ বাস্তবের মাটিতে কতটা সফল হয়, তা বলবে সময়।