স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি বছরই এই ছবি দেখা যাচ্ছে, একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলছে। অন্যদিকে, এলাকায় অর্থাৎ নন্দীগ্রামে একই দিনে পাশাপাশি দুটি মঞ্চ, তৃণমূল ও বিজেপির পৃথক কর্মসূচি।

শুভেন্দু- মমতা
শেষ আপডেট: 10 November 2025 11:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার নন্দীগ্রাম দিবসে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। একই দিনে, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও শহিদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। নন্দীগ্রাম দিবসকে ঘিরে সোমবার সকালে এলাকাজুড়ে কড়া নিরাপত্তা ছিল। পাশাপাশি দুটি মঞ্চ,একটি তৃণমূলের, অন্যটি বিজেপির, এনিয়ে কার্যত রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র ফুটে উঠল ওই এলাকায়। আক্রমণ, পাল্টা আক্রমণও করলেন দুই যুযুধান রাজনীতিক।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধা জানিয়ে লেখেন, 'ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলব নাকো নন্দীগ্রাম।' পরের লাইনেই লেখেন, 'নন্দীগ্রাম-সহ পৃথিবীর সকল শহিদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।' অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী বলেন, 'নন্দীগ্রামে আন্দোলনে বিজেপি ছিল। লালকৃষ্ণ আডবাণীর অবদান ভোলার মতো নয়। তিনিই তো অবরোধ তুলেছিলেন।'
"ভুলতে পারি নিজের নাম, ভুলব নাকো নন্দীগ্রাম"
নন্দীগ্রাম দিবসে, নন্দীগ্রাম-সহ পৃথিবীর সকল শহীদদের প্রতি জানাই বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি।— Mamata Banerjee (@MamataOfficial) November 10, 2025
শুভেন্দু এরপরই রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। নন্দীগ্রাম নিয়ে 'ভুল' স্বীকার করার পাশাপাশি মনে করিয়ে দেন, শহিদের পরিবার এখনও ডেথ সার্টিফিকেট পায়নি। নাম না করে মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বিরোধী দলনেতার বক্তব্য, “উনি (মুখ্যমন্ত্রী) বলেছিলেন রেসিডেন্সিয়াল স্কুল দেবেন, কিন্তু দেননি। শহিদ মিনারে উদ্বোধনে ডাকিনি বলে রাগ করেছিলেন। কিন্তু উদ্বোধন করব কেন? আমি ফিরোজা বিবি ও রাধারানি আড়িকে দিয়ে উদ্বোধন করিয়েছি। ওঁরা সন্তান হারিয়েছেন, নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।”
শুভেন্দুর দাবি, শহিদ পরিবারের কয়েকজন এখনও ডেথ সার্টিফিকেট বা ক্ষতিপূরণ পাননি। তাঁর অভিযোগ, “আপনি সবার মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেননি। চার জন আজও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি, কারণ ওরা বিজেপিতে এসেছে। কিন্তু আমি ওদের টাকা মিটিয়েছি। আসল পরিবর্তন ২০১১ সালে হয়নি। জনগণকে নিয়ে আমরাই আসল পরিবর্তন আনব।”
On the 18th anniversary of 'Blood-bathed Sunrise' ("রক্তাক্ত সূর্যোদয়") of the Nandigram Movement, to commemorate the Martyrs of Bhumi Uchhed Pratirodh Committee, I paid heartfelt respects & floral tributes at the Martyrs' Memorial.
Blood soaked Martyrdom; lest we forget… pic.twitter.com/6HolsnaBcx— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) November 10, 2025
স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, ২০২০ সালের পর থেকে প্রতি বছরই এই ছবি দেখা যাচ্ছে, একদিকে সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণ চলছে। অন্যদিকে, এলাকায় অর্থাৎ নন্দীগ্রামে একই দিনে পাশাপাশি দুটি মঞ্চ, তৃণমূল ও বিজেপির পৃথক কর্মসূচি। তাঁদের দাবি বাম আমলে ১০ নভেম্বর ছিল ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এর অংশ, এখন তা নন্দীগ্রামের ‘শহিদ দিবস’। কে আগে শহিদ বেদীতে পৌঁছবেন, তা নিয়ে প্রতি বছরই দেখা যায় এই রাজনৈতিক তরজা।
বিবাদ এড়াতে এ বছরও প্রশাসন কর্মসূচির সময় আলাদা করে দেয়। সকাল ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত সময় ছিল শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপির জন্য, তার পর শুরু হয় তৃণমূলের অনুষ্ঠান। শুভেন্দু ঠিক সময়েই শহিদ বেদীতে পৌঁছন, সঙ্গে ছিল না কোনও দলীয় পতাকা। বরং, বাম জমানার ‘অপারেশন সূর্যোদয়’-এর প্রতিবাদে হাতে ছিল কালো পতাকা। মঞ্চে ওঠার আগে শুভেন্দু স্মরণ করেন নন্দীগ্রাম আন্দোলনে বিজেপির অবদান।
অন্যদিকে, তৃণমূলের তরফে সকাল দশটার পর থেকে শহিদ বেদীতে ফুল অর্পণ করেন রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তৃণমূলের মূল অনুষ্ঠানও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে উভয় দলের কর্মসূচি কোনও সংঘর্ষ ছাড়াই শেষ হয় নন্দীগ্রামে।