সোজা ভাষায়, প্রতারকদের পাঠানো বিজ্ঞাপন বলছে— “রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বহু বছর ধরে পুরনো কয়েন সংরক্ষণ করে রেখেছে, এবার বিক্রি করছে! পছন্দসই কয়েন কিনতে চাইলে আবেদন করুন এবং মাত্র ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা পাঠান।”

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 13 July 2025 20:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া' (RBI)-র নাম ব্যবহার করে ছড়ানো হচ্ছে লোভনীয় প্রস্তাব— "পুরনো কয়েন (Selling Coins) বিক্রি করছে ব্যাঙ্ক, চাই আবেদন আর সামান্য ফি!" আর তাতেই পা দিচ্ছেন (Old traps, Fraud) বহু সাধারণ মানুষ। পূর্ব বর্ধমান, আসানসোল, বীরভূম থেকে হু-হু করে আসছে অভিযোগ। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে হোয়াটসঅ্যাপে আসছে প্রলোভনের ফাঁদ। কোটি টাকার পুরনো প্রতারণা আবার মাথা তুলছে ডিজিটাল মোড়কে।
সোজা ভাষায়, প্রতারকদের পাঠানো বিজ্ঞাপন বলছে— “রিজার্ভ ব্যাঙ্ক বহু বছর ধরে পুরনো কয়েন সংরক্ষণ করে রেখেছে, এবার বিক্রি করছে! পছন্দসই কয়েন কিনতে চাইলে আবেদন করুন এবং মাত্র ৭৫০ থেকে ১০০০ টাকা পাঠান।” সঙ্গে থাকে RBI-র লোগো সহ আসলের মতো দেখতে 'সার্টিফিকেট'। এরপর প্রতিশ্রুতি, কয়েন আসবে ডাকঘরের মাধ্যমে। কিন্তু টাকা পাঠালেই ‘লাভ ইজ লস’! প্রতারকেরা উধাও।
পুলিশ সূত্রের খবর, শুধু অনলাইনেই নয়, পুরনো ধাঁচের প্রতারণাও থেমে নেই। লাভপুর, বীরভূমের মতো এলাকায় এখনও সক্রিয় সেই পুরনো গল্প— “ভাঙা বাড়ি থেকে পাওয়া গেল সোনার কয়েন!” কথায় বিশ্বাস করিয়ে প্রতারকেরা সরাসরি বা মোবাইল ফোনে হাতিয়ে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।
পূর্ব বর্ধমানের পুলিশ সুপার সায়ক দাস বলেন, “সাইবার প্রতারকরা প্রতিদিন নতুন নতুন ছক কষছে। লোভে পড়ে কেউ যেন নিজের কষ্টার্জিত অর্থ না খোয়ান। কোনও সন্দেহজনক বার্তা পেলে সঙ্গে সঙ্গে থানায় অভিযোগ জানান।”
তদন্তকারীরা বলছেন, 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'–এর নামে প্রতারণার পরে এখন নতুন ঢেউ এই কয়েন ফাঁস। বহু প্রচার সত্ত্বেও এখনও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন বহু মানুষ।
বিশেষজ্ঞদের মত, অনেকের মধ্যেই পুরনো কয়েন নিয়ে আবেগ ও শখ কাজ করে। কেউ কেউ আবার বিশ্বাস করেন, এসব কয়েনের আন্তর্জাতিক বাজারমূল্য প্রচুর। সেই বিশ্বাসকেই হাতিয়ার করছে প্রতারকেরা।
তাই প্রতারণা ঠেকাতে পুলিশের পরামর্শ, RBI কখনও সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কয়েন বিক্রি করে না। যেকোনও আর্থিক লেনদেনের আগে উৎস ও তথ্য যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক মেসেজ বা বিজ্ঞাপন দেখলেই পুলিশের সাইবার সেলে যোগাযোগ করুন।
পুলিশের এক কর্তার কথায়, "সতর্ক থাকাটাই একমাত্র প্রতিরোধ। কারণ প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতারণাও বদলাচ্ছে মুখ। আর তাতে যদি না থাকে সাধারণ মানুষের সচেতনতা— তবে ক্ষতির খাতায় প্রতিদিনই যোগ হবে নতুন নাম।"