ডুয়ার্সের চ্যাংমারি চা বাগানের কারখানায় জলের স্রোতে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সিটিসি ও গ্রিন টি। গেন্দ্রাপাড়া, গুডহোপ, আনন্দপুর, বানারহাট, নাগরাকাটা- এমন অন্তত ৫০টি চা বাগান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 08:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গজুড়ে প্রকৃতির ভয়াল রূপে বিপর্যস্ত চা শিল্প (North Bengal Tea Industry)। টানা প্রবল বর্ষণ ও হড়পা বানে পাহাড় থেকে তরাই- সব অঞ্চলই কার্যত তছনছ হয়ে গিয়েছে। নদীর জল ঢুকে পড়েছে বহু চা বাগানে (Tea Garden)। চা গাছ ও কারখানার ভেতর পর্যন্ত জলে ডুবে গিয়েছে। ফলে নষ্ট হয়েছে বিপুল পরিমাণ তৈরি চা পাতা।
প্রাথমিক হিসাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৭৫ কোটি টাকার মতো। তবে পরিস্থিতি যেভাবে ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে, তা ১০০ কোটি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা চা ব্যবসায়ীদের। কারখানার পাশাপাশি ভেঙে পড়েছে বাগানের রাস্তা, কালভার্ট ও শ্রমিকদের ঘরবাড়িও। অনেক জায়গায় গাছ উপড়ে ভেসে গিয়েছে।
ডুয়ার্সের চ্যাংমারি চা বাগানের কারখানায় জলের স্রোতে নষ্ট হয়েছে প্রায় ৫ কোটি টাকার সিটিসি ও গ্রিন টি। গেন্দ্রাপাড়া, গুডহোপ, আনন্দপুর, বানারহাট, নাগরাকাটা- এমন অন্তত ৫০টি চা বাগান গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। ডুয়ার্স ব্রাঞ্চ টি অ্যাসোসিয়েশনের এক সদস্য বলছেন, '১৯৬৮ সালের পর এমন বিপর্যয় আর দেখা যায়নি। চা শিল্প কার্যত ধ্বংসের মুখে।'
উত্তরবঙ্গের (North Bengal) মোট ২৭৬টি বড় চা বাগানের মধ্যে পাহাড়ের অন্তত দশটি ভূমিধসে ভেসে গিয়েছে, তরাই অঞ্চলেও ক্ষতিগ্রস্ত ১৫টি বাগান। আলিপুরদুয়ারের কালচিনি ব্লকের সুভাষীনি, সাতালি, কালচিনি, বীচ- সব বাগানই এখন জলের তলায়। রাজ্য সরকারের সহায়তা ছাড়া পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয় বলে মনে করছে চা বণিকসভা।
এই দুর্যোগের ফলে চা উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় বাজারেও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগামী কয়েক মাসে চা-র দাম বাড়তে পারে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, নিম্নচাপের প্রভাবে উত্তরবঙ্গে প্রবল দুর্যোগের সম্ভাবনা। সোমবারও উত্তরবঙ্গের আটটি জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আলিপুরদুয়ারে ভারী বৃষ্টি হতে পারে, আর দার্জিলিং ও কালিম্পঙের মতো পাহাড়ি এলাকায় ধসের আশঙ্কা রয়েছে। জারি করা হয়েছে ‘হলুদ সতর্কতা’। বৃষ্টির সঙ্গে ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিতে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে।