দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে মৃত্যুর কথা রবিবার টুইটারে পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ‘উত্তরবঙ্গে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের কারও মৃত্যু সেতু ভেঙে হয়নি। আপনারা যা শুনেছেন, তা সত্য নয়। ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 October 2025 22:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের প্রাকৃতিক বিপর্যয় (North Bengal Floods) নিয়ে কেন্দ্রের বর্তমান ও বিগত সরকার গুলির বিরুদ্ধে বাংলার প্রতি চরম বঞ্চনা অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ (TMC MP) সুখেন্দু শেখর রায় (Sukhendu Sekhar Roy)। সোমবার তিনি সমাজ মাধ্যমে উত্তরবঙ্গের বিপর্যয় নিয়ে নিজের অভিমত তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, এই বিপর্যয়ের প্রধান কারণ বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা উপেক্ষা করা।
তিনি বলেছেন গত শতকের ষাটের দশকেই মেঘনাদ সাহার মতো বিশেষজ্ঞরা ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কার কথা বলেছিলেন। কিন্তু দিল্লির শাহেনশারা সেই পরামর্শ কানে তোলেননি। তিনি বলেছেন স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরও বাংলার প্রতিঅবহেলা অব্যাহত। তাঁর প্রশ্ন, আর কতদিন বাঙালি জাতিকে উত্তর বা পশ্চিম ভারতের শাসকদের প্রতি আনুগত্য দেখাতে হবে।
সমাজ মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ লিখেছেন মুষলধারে বৃষ্টি… ভয়াবহ ভূমিধস… সেতু ধসে পড়ছে… চা-বাগান, জঙ্গল, পাহাড়ের আশেপাশে বাড়িঘর ভেঙে পড়ছে। এত বছর ধরে উত্তরবঙ্গের (North Bengal) উপরভাগে পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন জেলায় যারা একের পর এক সেতু, বাঁধ বানিয়েছেন, তারা কারা?
দার্জিলিঙে সেতু ভেঙে মৃত্যুর কথা রবিবার টুইটারে পোস্ট করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাল্টা দাবি, ‘উত্তরবঙ্গে যাঁরা মারা গিয়েছেন, তাঁদের কারও মৃত্যু সেতু ভেঙে হয়নি। আপনারা যা শুনেছেন, তা সত্য নয়। ভুল তথ্য দেওয়া হয়েছে।’

সেই সঙ্গে ইন্দো-ভুটান নদী কমিশনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বহু বার বলেছি— ইন্দো-ভুটান নদী কমিশন হওয়া উচিত। না হলে উত্তরবঙ্গ বারবার এমন দুর্যোগে পড়বে। ভুটানে ৫৬টি নদী, সিকিমে গড়ে উঠেছে ৪০টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প। ফলে বিপুল জল আচমকাই নেমে আসে উত্তরবঙ্গে।’
সমাজ মাধ্যমে তৃণমূল সাংসদ সুখেন্দু শেখর কেন্দ্রীয় সরকারকে কটাক্ষ করে মন্তব্য করেছেন, 'কুমিরের অশ্রু ফেলবেন না! ভৌগোলিকভাবে বাংলা সব সময়েই ভুগছে—তা সে মাইথন, পাঞ্চেত বাঁধই হোক বা ভুটানের জলাধার। তিনি বলেছেন ভুটান সরকার বাংলার জন্য ইতিমধ্যেই সতর্কবার্তা জারি করেছে। তবুও ১৯৬০-এর দশক থেকে ভারতের সরকার বধির ও নির্বাক হয়ে আছে।যখন একের পর এক দুর্যোগ শুরু হয়েছিল ভুল পরিকল্পনা এবং ড. মেঘনাদ সাহার মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়—যাঁরা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন এই ধরনের অবহেলা থেকে বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা আছে।
প্রবীণ এই তৃণমূল সাংসদ আরো বলেছেন 'দিল্লির ‘সাহেনশাহ’রা শতাব্দীর পর শতাব্দী বাংলার প্রতি যত্নবান হয়নি। স্বাধীনতার ৭৮ বছর পরেও সেই অবহেলা অব্যাহত। ভাবুন, আত্মসমালোচনা এবং উপলব্ধি করুন—আর কতদিন বাঙালি জাতিকে উত্তর বা পশ্চিম ভারতের শাসকদের প্রতি আনুগত্য দেখাতে হবে?