আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে ধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

ছবি এআই
শেষ আপডেট: 5 October 2025 16:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অল্প সময়ের ব্যবধানে উত্তরবঙ্গে ফের ভয়াবহ বৃষ্টির পূর্বাভাস (North Bengal Heavy Rain)। রবিবার আবহাওয়া দফতর (Weather Office) জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় কোচবিহার (Cooch Behar) ও জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির আশঙ্কায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা (Take Action Alert)। অন্যদিকে দার্জিলিংয়ে (Darjeeling) ঘোষণা করা হয়েছে কমলা সতর্কতা (Be Prepared Alert)।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, কোচবিহার ও জলপাইগুড়িতে একাধিক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি (৭ থেকে ২০ সেমি পর্যন্ত) হতে পারে। সঙ্গে বজ্রঝড়, বিদ্যুৎ চমকানো এবং ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইবে। এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় বন্যা, ভূমিধস এবং রাস্তা ও ঘরবাড়ি ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
দার্জিলিং জেলার পাশাপাশি উত্তর দিনাজপুর ও দক্ষিণ দিনাজপুরেও ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। এই জেলাগুলিতেও ঘণ্টায় ৩০-৪০ কিমি বেগে ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবাণী, হঠাৎ বৃষ্টির জেরে নদীর জলস্তর বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে।
ইতিমধ্যে তিস্তা, তোর্সা, রায়ডাক ও জলঢাকা নদীর জলস্তর বৃদ্ধি নিয়ে চিন্তা বাড়ছে প্রশাসনের। বিশেষত পাহাড়ি এলাকা দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে ধস নামার আশঙ্কা প্রবল।
এদিকে দক্ষিণবঙ্গেও আগামী কয়েক দিনে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ৫ অক্টোবর থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই ২৪ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায় জারি করা হয়েছে হলুদ সতর্কতা (Be Aware Alert)। এই সময় ৪০-৫০ কিমি বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে, সঙ্গে বজ্রপাতের আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, শনিবার রাতে উত্তরবঙ্গে ৩০০ মিমি-রও বেশি বৃষ্টি নথিবদ্ধ হয়েছে। জলপাইগুড়ি, কোচবিহার এবং দার্জিলিং জেলার একাধিক এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রঝড় ও প্রবল দমকা হাওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আবহাওয়া দফতরের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, উত্তর বিহার ও সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হওয়া নিম্নচাপ দুর্বল হলেও সংশ্লিষ্ট ঘূর্ণাবর্ত এখনও সক্রিয় রয়েছে, যা উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার উপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস (IMD Forecast):
আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষকে ধসপ্রবণ এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে। বজ্রপাতের সময় খোলা জায়গা থেকে দূরে থাকতে হবে এবং বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।
হাওয়া অফিসের বার্তা, “বৃষ্টির জেরে ফসল ও সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা প্রবল। মানুষ ও গবাদি পশুকে নিরাপদ স্থানে সরানো, বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা এবং অস্থায়ী ঘরবাড়ি থেকে দূরে থাকা এখনই সবচেয়ে প্রয়োজনীয়।”