জেলা প্রশাসনের তরফে সোমবার দুটি কমিউনিটি কিচেনের আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ৮ হাজার জনকে খাবার পরিবেশন করা হয়।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 October 2025 13:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গে (North Bengal) ভয়াবহ বন্যার (Flood Situation) পর অবশেষে কিছুটা স্বস্তি পেলেন জলপাইগুড়ির মডেল ভিলেজের (Jalpaiguri Model Village) বাসিন্দারা। অনেকদিন পর প্রথমবার পেট ভরে খেতে পেলেন তারা। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সফর উপলক্ষে আয়োজন করা হয়েছিল এই খাওয়া দাওয়ার।
সোমবার দুপুরে রিলিফ ক্যাম্পে (Relief Camp) খাবারের মেনুতে ছিল গরম ভাত, মাংস, সবজির তরকারি আর চাটনি। বহুদিন পর এমন খাওয়ায় মুখে হাসি ফুটল বন্যাপীড়িতদের (Flood Victims)। “শেষ কবে এমন খাওয়া হয়েছে মনে করতে পারছি না,” বলেন তন্ডু গ্রামের রুস্তম মুন্ডা, যাঁর কথায় মিশে ছিল অসংখ্য ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারেরই মনের কথা।
জেলা প্রশাসনের তরফে সোমবার দুটি কমিউনিটি কিচেনের (Community Kitchen) আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রায় ৮ হাজার জনকে খাবার পরিবেশন করা হয়। এর মধ্যে ৩ হাজার জন ছিলেন মডেল ভিলেজের এবং ৫ হাজার জন বামানডাঙা ও তন্ডু চা-বাগানের বাসিন্দা। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী সফর করেছেন বামানডাঙা-তন্ডু চা-বাগান ও মডেল ভিলেজে। দুটি এলাকাই ডুয়ার্সের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলের মধ্যে অন্যতম।
মডেল ভিলেজে দায়না, কুচি দায়না ও গাঠিয়া নদী উপচে পড়ায় এলাকা সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। সেখানে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে, শতাধিক পরিবার ঘরহারা। বামানডাঙা ও তন্ডুর চা-বাগানে কর্মীরা আশ্রয় নিয়েছেন চা-কারখানার দ্বিতীয় তলায়। এলাকাজুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। রাতে অনেকেই এখনও কারখানায় থাকেন হাতির আক্রমণ এড়াতে, দিনের বেলায় ফিরে যান বাড়িতে।
বন্যায় ভেসে গেছে সেতু, কালভার্ট, রাস্তাঘাট - ফলে বহু গ্রামই এখন কার্যত বিচ্ছিন্ন। যাতায়াত করতে স্থানীয়দের নদীর অগভীর অংশ পেরিয়ে হাঁটতে হচ্ছে। তবু সোমবারের খাবার ক্ষণিক স্বস্তি এনে দিল সবার মুখে।
এই প্রসঙ্গে বামানডাঙার গীতা মাহালি বললেন, “বাচ্চাদের ঠিকমতো খাওয়াতে পারিনি অনেকদিন। আজ একটু শান্তি লাগছে।” পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন সুরেশ ওরাওঁ, তিনিও বন্যায় সব হারিয়েছেন।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মডেল ভিলেজে বন্যাপীড়িতদের সঙ্গে কথাও বলেছেন। পাশাপাশি জেলা শাসক শামা পারভিন জানান, “খাবারের পাশাপাশি এলাকায় স্বাস্থ্য শিবিরও আয়োজন করা হয়েছে।”
বন্যায় বিধ্বস্ত নাগরাকাটায় এই খাওয়া-দাওয়ার আয়োজন শুধু সামান্য উদ্যোগ নয়, একটু স্বস্তি, একটু আশার আলো।