শমীকের আরও বক্তব্য, ফর্ম-৭ গ্রহণ না হলে এবং ফর্ম-৬ আপলোড না হলে বাংলায় ভোট হওয়ার কোনও অর্থ নেই।
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 19:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে বাংলার রাজনীতিতে ক্রমশ বাড়ছে সংঘাত। শাসকদলের একাধিক নেতার তরফে অভিযোগ, এসআইআর-এর নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। সেই আবহেই পাল্টা হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য (Samik Bhattachariya)।” তাঁর সাফ বক্তব্য, “নো এসআইআর, নো ভোট (No SIR, No Vote)।"
শমীকের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে এবং ১০০ শতাংশ সম্পূর্ণ না হলে বাংলায় ভোট হওয়া উচিত নয়। তাঁর অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে বিএলওদের দিয়ে এমন তথ্য আপলোড করানো হচ্ছে, যার ফলে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রবীণ নাগরিককে অকারণে শুনানিতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। এতে নির্বাচন কমিশন সম্পর্কে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি তাঁর। যদিও শমীক বলেন, দেশের স্বার্থে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করে বিজেপি রাজ্য সভাপতির বক্তব্য, ভুয়ো ও মৃত ভোটারের নাম বাদ পড়লে ক্ষমতায় থাকা যাবে না বুঝেই শাসকদল এসআইআর প্রক্রিয়া বানচালের ষড়যন্ত্র করছে। তাই হুমকি-ধমক দিয়ে গোটা প্রক্রিয়াকে ভেস্তে দেওয়ার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ তাঁর। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কাছে কড়া পদক্ষেপের দাবি জানান শমীক।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, “১২টি রাজ্যে এসআইআর হচ্ছে, অথচ আগুন জ্বলছে শুধু বাংলায় কেন?” পাশাপাশি মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে রাজ্যে এসে ডায়মন্ড হারবার থেকে মাথাভাঙা, শীতলকুচি, বেলডাঙা ঘুরে দেখার আহ্বান জানান তিনি— এসআইআর-এর নামে বাস্তবে কী ঘটছে, তা সরেজমিনে খতিয়ে দেখার দাবি করেন।
শমীকের আরও বক্তব্য, ফর্ম-৭ গ্রহণ না হলে এবং ফর্ম-৬ আপলোড না হলে বাংলায় ভোট হওয়ার কোনও অর্থ নেই। তাই তাঁর স্লোগান, “নো এসআইআর, নো ভোট।”
উল্লেখ্য, এর আগে ফরাক্কার বিধায়ক মণিরুল ইসলাম এবং বুধবার রঘুনাথগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তথা বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আখরুজ্জামান এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। আখরুজ্জামানের হুঁশিয়ারি ছিল, এসআইআর-এর নামে বৈধ ভোটারের নাম বাদ গেলে জেলায় ‘জনবিস্ফোরণ’ ঘটতে পারে। তারই পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন শমীক।
এদিন শমীক তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রেল নিয়ে করা মন্তব্যেরও কড়া জবাব দেন। বুধবার পুরুলিয়ার সভা থেকে চক্রধরপুর, রুপসী বাংলা, পুরুলিয়া এক্সপ্রেসের মতো গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের দেরিতে চলা নিয়ে বিজেপি ও রেলকে আক্রমণ করেছিলেন অভিষেক। এদিন তাঁকে কটাক্ষ করে শমীক বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের প্রতিনিধি যখন রেলমন্ত্রী ছিলেন, তখন কতগুলো ‘পাথর পোঁতা হয়েছিল’, সেই পাথরের বিবর্তন কোথায় পৌঁছেছে তা আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে করালেই পরিষ্কার হবে।
রেল প্রকল্প নিয়েও রাজ্য সরকারকে কাঠগড়ায় তোলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি। তাঁর দাবি, জমি জটের কারণে বাংলায় রেলের ৪৩টি প্রকল্প আটকে রয়েছে। রাজ্যের কোনও সুস্পষ্ট জমিনীতি না থাকায় ফ্রেট করিডর থেকে শুরু করে বিএসএফ ও রেলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প ঝুলে রয়েছে।
বাংলায় ‘জঙ্গলরাজ’ চলছে বলেও অভিযোগ শমীকের। তাঁর দাবি, কোচবিহারের মগরাহাটে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক ও বিরোধী দলনেতাকে এক গাড়িতে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা হয়েছিল। এই পরিস্থিতিতে নীচুতলার কর্মীদের উপর অত্যাচার হওয়াই স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেন তিনি। পাশাপাশি বগটুই কাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে শমীক বলেন, তৃণমূল নিজেদের লোকজনকেও রেহাই দেয় না।
সব মিলিয়ে এসআইআর ইস্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর ক্রমেই তীব্র হচ্ছে, আর তার মধ্যেই ‘নো এসআইআর, নো ভোট’ স্লোগান নতুন করে উত্তাপ ছড়াল বাংলার রাজনৈতিক ময়দানে।