মৃত্যুর খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। খালেদার বাড়িতে যান কুলপি ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুপ্রিয় হালদার। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি।
.jpeg.webp)
ছবি-এ আই।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 14:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR), প্রশাসনিক এক প্রক্রিয়া, যা কুলপিতে (Kulpi) হয়ে উঠল আতঙ্কের কারণ। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলপির করঞ্জলী এলাকার বাসিন্দা খালেদা বিবির মৃত্যুকে ঘিরে প্রশ্নের ঝড়। পরিবারের অভিযোগ, চার পুত্রের নামে এসআইআর-সংক্রান্ত শুনানির নোটিস আসার পর থেকেই প্রবল মানসিক চাপে ভুগছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই চাপই প্রাণ কেড়ে নেয় বলে দাবি পরিবারের।
এ দিকে, এসআইআর ঘিরে চাপের ছবি মিলেছে প্রশাসনিক স্তরেও। দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাটে এসআইআরের শুনানির দায়িত্বে থাকা এক এইআরও হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই আধিকারিক জিন্নাত আমান খাতুন শুনানি কেন্দ্রেই অসুস্থ হন বলে জানা গিয়েছে। সহকর্মীদের মতে, দীর্ঘ সময় টানা কাজ ও অতিরিক্ত মানসিক চাপই তাঁর অসুস্থতার কারণ।
প্রথমে তাঁকে বানেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে অবস্থার কথা বিবেচনা করে চিকিৎসকেরা তাঁকে ডায়মন্ড হারবার মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।
এদিকে মৃত খালেদার চার সন্তান। কয়েক দিন আগে তাঁদের প্রত্যেকের নামেই শুনানির নোটিস পৌঁছয় বাড়িতে। নির্দিষ্ট দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে শুনানিকেন্দ্রে হাজির থাকার নির্দেশ ছিল তাতে। কিন্তু কী নথি লাগবে, কেন বারবার ডাকা হচ্ছে— এই অনিশ্চয়তাই ধীরে ধীরে গ্রাস করছিল খালেদাকে। পরিবারের দাবি, ছেলেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগে রাতের ঘুম উড়ে গিয়েছিল তাঁর।
পরিবারের বক্তব্য, মানসিক চাপের মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন খালেদা। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে দেহ ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে পুলিশ। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
এই মৃত্যুর খবর ছড়াতেই রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে। খালেদার বাড়িতে যান কুলপি ব্লক তৃণমূল সভাপতি সুপ্রিয় হালদার। তাঁর অভিযোগ, নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির কারণেই এই মর্মান্তিক পরিণতি। সুপ্রিয় বলেন, “বার বার শুনানির নোটিস পাঠালে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় তৈরি হয়। কেন ডাকা হচ্ছে, তা অনেকের কাছেই পরিষ্কার নয়। নির্বাচন কমিশন বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা করছি। কমিশনার কার্যত বিজেপির দালালি করছেন।”