বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য হয়েই তিনি অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 13:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের মুখে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও চড়ল শিলিগুড়িতে। বিধায়ক তহবিলের টাকা আটকে রাখার অভিযোগে (Allegations of holding money from the MLA fund) পূর্বঘোষণা মতো বৃহস্পতিবার শিলিগুড়ি শহরের নেতাজি মূর্তির পাদদেশে অনশনে বসলেন শিলিগুড়ির বিজেপি বিধায়ক তথা বিধানসভায় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ (Siliguri BJP MLA Shankar Ghosh, hunger strike at Netaji statue)। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র শোরগোল।
শঙ্কর ঘোষের দাবি, বিধানসভায় একাধিক ইস্যুতে শাসকদলের বিরুদ্ধে সরব হওয়ার ‘মাশুল’ হিসেবেই প্রশাসন তাঁর বিধায়ক তহবিলের টাকা আটকে রেখেছে। তাঁর অভিযোগ, এলাকার উন্নয়নের জন্য প্রাপ্য অর্থ খরচে ইচ্ছাকৃতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে অন্তত ৯টি উন্নয়ন প্রকল্প আটকে রয়েছে। এ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে চিঠি পাঠানো হলেও কোনও সাড়া মেলেনি বলেই অভিযোগ তাঁর।
অনশনে বসে শঙ্কর ঘোষ বলেন, “প্রতি বছর একজন বিধায়ক এলাকায় উন্নয়নের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা পান। পাঁচ বছরে তা দাঁড়ায় ৩ কোটি টাকা। অথচ প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে সেই অর্থ আটকে রাখা হচ্ছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয় উন্নয়ন থমকে যাচ্ছে।”
চিঠিতে শিলিগুড়ি বিধানসভা এলাকার একাধিক নাগরিক সমস্যার কথাও তুলে ধরেছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলি প্রশাসনের নজরে আনা হলেও কার্যকর কোনও পদক্ষেপ হয়নি বলে অভিযোগ। পাশাপাশি শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এসজেডিএ) ও শিলিগুড়ি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের ভূমিকায় অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার কারণেই সাধারণ মানুষের ক্ষোভ ক্রমশ বাড়ছে।
বিজেপি বিধায়কের বক্তব্য, শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে দাবি জানানো সত্ত্বেও প্রশাসনের সহযোগিতা না পেয়ে বাধ্য হয়েই তিনি অনশনের পথ বেছে নিয়েছেন। ভবিষ্যতেও যদি বাধা দেওয়া হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।
যদিও শঙ্কর ঘোষের অভিযোগ মানতে নারাজ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। তাঁদের পাল্টা দাবি, বিধায়ক সঠিক প্রশাসনিক পদ্ধতি অনুসরণ করেননি বলেই জটিলতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে তৃণমূলের কটাক্ষ, ভোটের মুখে রাজনৈতিক হাওয়া গরম করতে ‘সস্তার প্রচার’কেই হাতিয়ার করছেন বিজেপি বিধায়ক।