এদিকে, ডুবে যাওয়া জাহাজে কী ধরনের পণ্য বহন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নদীতে তেল বা কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সে দিকেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন।

ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝনদীতে আচমকা যান্ত্রিক গোলযোগ। তার জেরেই মুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে গেল বাংলাদেশি পণ্যবাহী জাহাজ (Bangladesh Cargo Ship, Sinks)। বুধবার বিকেলে কচুবেড়িয়া সংলগ্ন মুড়িগঙ্গার মাঝ বরাবর এই দুর্ঘটনাকে ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কলকাতা বন্দর থেকে পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল জাহাজটি।
দুর্ঘটনাগ্রস্ত জাহাজটির নাম এমভি তামজিদ অ্যান্ড নাসির। সুন্দরবন পুলিশ জেলার সুপার কোটেশ্বর রাও জানান, বুধবার বিকেলে ঘোড়ামারা দ্বীপ ও কচুবেড়িয়ার মধ্যবর্তী এলাকায় পৌঁছনোর সময় হঠাৎই জাহাজটির ইঞ্জিনে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেটি নদীর প্রবল স্রোতের মুখে পড়ে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জাহাজের নীচের অংশে ফাটল ধরে এবং জল ঢুকতে শুরু করে।
পরিস্থিতি বেগতিক বুঝে জাহাজে থাকা নাবিকরা দ্রুত সাহায্যের আবেদন জানান। খবর পেয়েই তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছয় সাগর থানার পুলিশ। উদ্ধার করা হয় জাহাজে থাকা ১২ জন বাংলাদেশি নাবিক ও কর্মীকে। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, সকলেই সুস্থ রয়েছেন। হতাহতের কোনও খবর নেই।
উদ্ধার হওয়া নাবিকদের প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁরা গঙ্গাসাগর থানার অন্তর্গত একটি আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। সেখানে তাঁদের জন্য শুকনো খাবার ও পানীয় জলের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। বাংলাদেশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে শীঘ্রই তাঁদের নিজ দেশে পাঠানো হবে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর।
এদিকে, ডুবে যাওয়া জাহাজে কী ধরনের পণ্য বহন করা হচ্ছিল, তা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। নদীতে তেল বা কোনও ক্ষতিকর রাসায়নিক ছড়িয়ে পড়েছে কি না, সে দিকেও কড়া নজর রাখছে প্রশাসন। বিষয়টি জানানো হয়েছে পরিবেশ দফতরকে। নদীর জল পরীক্ষার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনার জেরে কিছু সময়ের জন্য মুড়িগঙ্গা নদীপথে নৌ-চলাচল ব্যাহত হয়। সতর্কতামূলকভাবে একাধিক লঞ্চ ও পণ্যবাহী নৌযানকে অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়। নদীতে দূষণের আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় মৎস্যজীবীরাও।
প্রশাসনের দাবি, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ জানতে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করা হবে। পাশাপাশি বৃহস্পতিবার সকালেও ডুবে যাওয়া জাহাজ উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এই ঘটনার পর নদীপথে চলাচলকারী জাহাজগুলির যান্ত্রিক রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।