ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানান, তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে দু’টি প্রদর্শনী করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই নামানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “তখন আমার নিজেকে লাঞ্চিত মনে হয়েছিল, অপমানিত বোধ করেছি।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 18:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা বইমেলার (Kolkata Book Fair) মঞ্চে দাঁড়িয়েই এজেন্সি-কমিশন ও মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব হওয়ার অভিযোগে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। এসআইআর (SIR)-এর নামে হয়রানির অভিযোগ তুলে তিনি বললেন, হিয়ারিংয়ের অজুহাতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মানুষকে লাইনে দাঁড় করিয়ে রাখা হচ্ছে। তার জেরেই একের পর এক মৃত্যুর খবর আসছে।
এই পরিস্থিতিকে এজেন্সির ‘নির্যাতন’-এর সঙ্গে তুলনা করে নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ টেনে মমতা জানান, তাঁর আঁকা ছবি নিয়ে দু’টি প্রদর্শনী করার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই নামানো হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বললেন, “তখন আমার নিজেকে লাঞ্চিত মনে হয়েছিল, অপমানিত বোধ করেছি।"
নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে মমতার সাফ কথা, তিনি কাজ করতে ভালবাসেন, কিন্তু নিজের ঢাক নিজে পেটান না। রবীন্দ্রনাথের ভাষা ধার করে বললেন, “আমারে না জানি করি প্রচার, আমার আপন কাজে।” মমতার কথায়, "আমি ছোটখাটো লিখি। আমি তো জ্ঞানীগুণী লোক নই, আমি খুব সিম্পল।"
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, শিল্পী শুভাপ্রসন্ন ও প্রয়াত সহকর্মী মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণাতেই তিনি আঁকতে শুরু করেন। কখনও প্রশিক্ষণ নেননি, চিরকুটে এঁকে ফেলে দিতেন। কিন্তু তাঁর তুলির টানে আলাদা একটা ভাষা আছে—এমনটাই নাকি বলেছিলেন শুভাপ্রসন্ন। বিনা পয়সায় দু’টি প্রদর্শনী করায় তাঁকে ‘টার্গেট’ করা হয় বলে অভিযোগ। তবু কোনওদিনই সেই ছবি থেকে এক পয়সাও নেননি। সবটাই দান করেছেন—কখনও এনজিওকে, কখনও গরিব মানুষের সাহায্যে।
সেই কারণেই এখন আর এক্সিবিশন করেন না জানিয়ে মমতা বলেন, সার্কিট হাউসে গেলে ক্যানভাসে আঁকি, প্রশাসন সেগুলি যত্নে রেখে দেয়, আর বিদেশ সফরে বা বিদেশি অতিথিদের সেই ছবিই উপহার দেওয়া হয়। তাঁর কথায়, এতে পয়সাও বাঁচে, রং-তুলিও ‘ম্যানেজ’ হয়ে যায়। নিজের আয়ের প্রসঙ্গে মমতার দাবি, তাঁর একমাত্র ইনকাম বইয়ের রয়্যালটি।
মমতা আরও বলেন, সাতবার সাংসদ থাকার সুবাদে তিনি মাসে দেড় লক্ষ টাকা পেনশন পেতে পারেন। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও গত পনেরো বছরে এক পয়সা নেননি। এই হিসাব মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা তিনি সরকারকেই দিয়ে দিয়েছেন বলে দাবি তাঁর। সমালোচকদের উদ্দেশে খোঁচা দিয়ে বলেন, “যাঁরা গালাগালি দেন, আমি সেটাকেও ভালবাসি। গালাগালি মানে বুঝি, কিছু একটা হয়েছে। ভাল কথা বলতে চাইছে, পারছে না!”
এসআইআর-এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষাও বেছে নিয়েছেন নিজের মতো করে। জানালেন, ২০২৬ সালেই এই বিষয়কে কেন্দ্র করে লিখে ফেলেছেন ২৬টি কবিতা। হেলিকপ্টারে যেতে যেতে দু’-তিনদিনেই লেখা—এই কবিতাগুলি ‘স্যার’ নামে প্রকাশ পাবে বলে ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি জানান, বইয়ের সংখ্যাও বাড়ছে—আগে ১৫৩টি ছিল, এবার আরও ৯টি বেরোবে।