ছোট-বড় মিলিয়ে হাজারেরও বেশি স্টল, অংশগ্রহণ ২১টি দেশের—প্রাক-সুবর্ণজয়ন্তীর বইমেলায় তাই শুধু বই নয়, আবেগও উপচে পড়ছে।
.jpeg.webp)
বইমেলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 22 January 2026 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এআই এর দাপটে কি বইয়ের প্রতি ঝোঁক কিছুটা কমে যাচ্ছে? কলকাতা বইমেলা থেকে জনতার উদ্দেশে এই প্রশ্ন ছুড়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, "এখন সবাই অবশ্য বই থেকে অনেকটা দূরে। যুগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এগিয়ে চলেছি। হাতে এসেছে স্মার্ট ফোন, এআই। সব কিছু পেয়ে যাচ্ছে। বইদের দিকে ঝোঁকটা কি একটু কমে যাচ্ছে?"
খানিক থেমে জবাবও দিবেন নিজেই। মমতার কথায়, "আমি মনে করেন, বইপ্রেমীরা এখনও বই পড়েন"। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, বইয়ের কোনও বাউন্ডারি নেই। বই হচ্ছে সবার মান, সম্মান এবং শিক্ষা সংস্কৃতির এক সর্বজনীন অবদান।
এ প্রসঙ্গে মমতা এও জানান, "আমার সময় কম থাকে। তবু সময় পেলে বই পড়ি। লিখি। কম্পিউটারে আমাকে পোষায় না। প্লেনে ও সময় পেলে হাতে লিখি। হাতে লেখার মধ্যে যে স্বাচ্ছন্দ্য তা অন্য কিছুতে হয় না।"
সেন্ট্রাল পার্কে (Central Park) বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল ৪৯তম আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলা (Kolkata Book Fair)। এবারের থিম আর্জেন্টিনা। সাধারণ পাঠকদের জন্য দরজা খুলতেই ভিড়ের আভাস। সেখানেই একথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)।
সেখানেই রাজ্যের বইপ্রেমীদের হয়ে বিশেষ দাবি তুলে ধরলেন পাবলিশার্স অ্যান্ড বুকসেলার্স গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ত্রিদিবকুমার চট্টোপাধ্যায়, রাজ্যে স্থায়ী ‘বই-অঙ্গন’ বা ‘বইতীর্থ’ গড়ার আবেদন!
সূচনা ভাষণে ত্রিদিববাবু বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নিত্যনতুন ভাবনার জন্য কৃতজ্ঞ প্রকাশক-পাঠক মহল। তাঁর আর্জি, “বইপ্রেমীদের জন্য রাজ্যে যদি একটি বইঅঙ্গন বা বইতীর্থ গড়ে ওঠে, তা হলে বাংলা আরও সমৃদ্ধ হবে। জানি, আপনি পারবেন।”
সেই দাবি মেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কলকাতা বইমেলার ৫০ বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই বইতীর্থ হবে। এজন্য সরকার থেকে ১০ কোটি টাকা দেওয়া হবে। এজন্য গিল্ডকে অফিসিয়ালি আর্জি জানানোর কথা বলে মমতা বলেন, "পরের বছর বই প্রাঙ্গনের সঙ্গে বইতীর্থ দেখতে চাই।"
একই সঙ্গে মনে করান, বইমেলায় ইনসিওরেন্সের কথা। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, "বাইচান্স যদি কেউ দুষ্টুমি করে তাহলে লোকসানটা অন্তত ঠেকানো যায়। বাব্বা, যা চলছে!"
এদিনের অনুষ্ঠানে আর্জেন্টিনার অ্যাম্বেস্যাডার মারিয়ানো কৌসিনো, সাহিত্যিক স্বপ্নময় চক্রবর্তী, শুভাপ্রসন্ন এবং রাজ্যের একাধিক মন্ত্রী ও বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত রয়েছেন।
ত্রিদিববাবুর কথায়, গত ৪৯ বছরে বইমেলার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি মুখ্যমন্ত্রীর সৌজন্যে মেলার নিজস্ব ঠিকানা। না হলে আজও প্রকাশক আর পাঠকদের ‘ভবঘুরে’র মতো ঘুরে বেড়াতে হত।
এদিকে উন্নত মেট্রো সংযোগ—বিশেষ করে হাওড়া-শিয়ালদহ যুক্ত হওয়ায়—এবার রেকর্ড ভিড়ের আশঙ্কা। প্রস্তুতিও তেমনই। সিসিটিভি নজরদারি, সাদা পোশাকের পুলিশ থেকে অ্যান্টি-ক্রাইম ইউনিট, ই-স্কুটার প্যাট্রোল—নিরাপত্তায় একাধিক বিশেষ টিম। বিধাননগর পুলিশের কমিশনার মুকেশ জানান, হাজারেরও বেশি ফোর্স মোতায়েন, ভিড় নিয়ন্ত্রণে সবরকম ব্যবস্থা প্রস্তুত।
গতবারে বইমেলায় এসেছিলেন ২৭ লক্ষ মানুষ। ২৩ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছিল। এবারে তা ছাপিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রয়েছে ১১০০ স্টল রয়েছে। মেলা চলবে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন বেলা ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে এই মেলা। এবারও বইমেলায় এন্ট্রি ফি ফ্রি।