তবে বাইকচালকদের একাংশের মতে, শুধু পাম্পে কড়াকড়ি করলেই যথেষ্ট নয়— হেলমেটের মান, রাস্তার আলো ও তদারকিও বাড়াতে হবে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 16:05
প্রতীতি ঘোষ, ব্যারাকপুর: ব্যারাকপুর-কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়েতে (Barrackpore-Kalyani Expressway) পথ দুর্ঘটনা রুখতে উদ্যোগী হল পুলিশ কমিশনারেট। রাজপথে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং বাইক আরোহীদের সচেতন করতে শুরু হয়েছে অভিনব ব্যবস্থা — হেলমেট ছাড়া পেট্রোল নয় (No helmet, no oil)। নতুন এই নিয়মে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, যাঁরা মাথায় হেলমেট না পরে পেট্রোল পাম্পে আসবেন, তাঁদের কোনোভাবেই তেল দেওয়া হবে না।
ট্রাফিক গার্ডের তত্ত্বাবধানে এক্সপ্রেসওয়ে লাগোয়া পেট্রোল পাম্পগুলিতে লাগানো হয়েছে বড় বড় ব্যানার— “No Helmet, No Petrol”। শুধু ব্যানার টানানোই নয়, পাম্পকর্মীদেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নিয়ম ভাঙলে সঙ্গে সঙ্গে খবর দিতে হবে ট্রাফিক পুলিশকে।
ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটের অ্যাসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার (উত্তর ট্রাফিক) রাজশ্রী শঙ্কর বনিক ও আতপুর ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিক সুরেশ্বর মণ্ডল বলেন, “শুধু জরিমানা করে সমস্যার সমাধান হয় না। অনেকেই হেলমেটকে এখনও বাড়তি বোঝা বলে মনে করেন। তাই এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যাতে নিয়ম মানা অভ্যাসে পরিণত হয়।”
পুলিশের পরিসংখ্যান বলছে, এক্সপ্রেসওয়েতে গত কয়েক মাসে যে সব দুর্ঘটনা ঘটেছে, তার অনেকগুলির ক্ষেত্রেই হেলমেট না থাকার বিষয়টি বড় ফ্যাক্টর হিসেবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে রাতের দিকে হাই-স্পিড বাইক চলাচল ও ওভারটেকিংয়ের ঘটনাই বাড়িয়েছে ঝুঁকি। ফলে বিকল্প পথ খুঁজতে গিয়েই এই নতুন নিয়ম চালু করল প্রশাসন (New police rules in Barrackpore to prevent accidents)।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচলতি মানুষের বড় অংশ এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। কারও বক্তব্য— “এভাবে বাধ্য করলে মানুষ নিয়ম মানবেই। প্রাণ বাঁচানোই তো আসল কথা।” আবার অনেকে মনে করছেন, নিয়মের কড়াকড়ি বাড়লে দুর্ঘটনা কমার পাশাপাশি ট্রাফিক শৃঙ্খলাও দৃশ্যত বাড়বে।
তবে বাইকচালকদের একাংশের মতে, শুধু পাম্পে কড়াকড়ি করলেই যথেষ্ট নয়— হেলমেটের মান, রাস্তার আলো ও তদারকিও বাড়াতে হবে। প্রশাসন জানিয়েছে, এই উদ্যোগকে বৃহত্তর সচেতনতা কর্মসূচির অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে আরও এলাকায় এই নিয়ম চালুর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।
পুলিশ কমিশনারেটের দাবি, এটি শুধুই নিয়ম জারি নয়, ভবিষ্যতের দুর্ঘটনা প্রতিরোধের উদ্যোগও। তাঁদের আশা, “হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক নয়, স্বতঃস্ফূর্ত অভ্যাস হয়ে উঠুক— এটাই লক্ষ্য।”