গত ৮ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই সময় রোহিণী রোডের প্রায় ৫০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই দিন থেকেই রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 13:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইংরেজি ক্যালেন্ডারের নতুন বছরের শুরুতেই পাহাড়প্রেমী পর্যটকদের জন্য বড় সুখবর (Good news for mountain lovers)। প্রায় তিন মাস পর বৃহস্পতিবার ফের খুলে দেওয়া হল রোহিণীর রাস্তা (Rohini opened after three months)। এ দিন থেকেই এই পথে সমস্ত ধরনের যান চলাচল শুরু হয়েছে। ফলে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং (Darjeeling to Karshiang) যাওয়ার দূরত্ব এক ধাক্কায় প্রায় ১০ কিলোমিটার কমে গেল।
শীতের মরশুমে পাহাড়ে পর্যটকের ঢল এমনিতেই বেশি। তার উপর রোহিণীর রাস্তা খুলে যাওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই খুশির হাওয়া পর্যটক মহলে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন পরিবহণ ব্যবসায়ীরাও। কারণ এই রাস্তা দিয়ে কার্শিয়াং যাতায়াত শুরু হলে সময় যেমন কমবে, তেমনই যাতায়াতের খরচও অনেকটাই কমবে।
ট্যাক্সিচালকদের সংগঠন ‘তরাই চালক সংগঠন’-এর তরফে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানানো হয়েছে। সংগঠনের মতে, রোহিণীর রাস্তা চালু হওয়ায় পর্যটন এবং পরিবহণ, দু’ক্ষেত্রেই ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এখন পাহাড়মুখী পর্যটকদের সময় ও খরচ, দু’টিই উল্লেখযোগ্য ভাবে সাশ্রয় হবে বলে মনে করছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।
গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (GTA)-র চিফ এগজিকিউটিভ অনীত থাপা বলেন, “দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ক্ষেত্রে বহু বছর ধরেই রোহিণীর রাস্তা লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত। গত অক্টোবরে ভয়াবহ ক্ষতির পর দ্রুত সংস্কারের কাজ শুরু করা হয়েছিল।”
উল্লেখ্য, গত ৮ অক্টোবর প্রবল বৃষ্টির জেরে উত্তরবঙ্গের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। সেই সময় রোহিণী রোডের প্রায় ৫০ মিটার অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ওই দিন থেকেই রাস্তা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়।
আবহাওয়া স্বাভাবিক হতেই শুরু হয় সংস্কারের কাজ। তবে পাহাড়ি এলাকায় রাস্তা মেরামত করতে সময় লেগে যায় প্রায় তিন মাস। এই সময় শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং ও কার্শিয়াং যাওয়ার ক্ষেত্রে পর্যটকদের ভরসা ছিল মূলত ১১০ নম্বর জাতীয় সড়ক। ফলে যাতায়াতে সময় যেমন বেশি লাগছিল, তেমনই খরচও বেড়েছিল অনেকটা।
নতুন বছরের শুরুতেই রোহিণীর রাস্তা খুলে যাওয়ায় পাহাড়ের পর্যটন মরশুমে নতুন গতি আসবে বলেই মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।