অভিযোগের আঙুল ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা, তৃণমূল কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত মুসা মোল্লা এবং তাঁর অনুগামীদের দিকে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 3 January 2026 11:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সন্দেশখালিতে (Sandeshkhali) ফের অশান্তির আগুন। এ বার পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ উঠল (allegations of attack on police)। ভাঙচুর করা হল পুলিশের গাড়িও। শুক্রবার গভীর রাতে ঘটে যাওয়া এই ঘটনায় এক পুলিশ আধিকারিক-সহ চার জন আহত হয়েছেন।
অভিযোগের আঙুল ন্যাজাট থানার রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি এলাকার বাসিন্দা, তৃণমূল কর্মী হিসেবে এলাকায় পরিচিত মুসা মোল্লা এবং তাঁর অনুগামীদের দিকে। ঘটনায় ন’জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মুসা মোল্লার বিরুদ্ধে ওই এলাকায় অবৈধভাবে জমি দখলের অভিযোগ উঠেছিল (land dispute)। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট জমির উপর আদালতের নির্দেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, শুক্রবার রাতের অন্ধকারে সেই জমিতেই পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেন মুসা। খবর পেয়ে রাতেই রাজবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ মুসার বাড়িতে পৌঁছয় এবং তাঁকে থানায় যেতে বলে।
সেই সময়ই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। পুলিশ দাবি করেছে, মুসা তখন ফোন করে তাঁর অনুগামীদের ডেকে আনেন। এর পরই পুলিশের উপর চড়াও হয় একদল লোক। শুরু হয় ইটবৃষ্টি, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের গাড়ি। ধস্তাধস্তিতে এক পুলিশ আধিকারিক-সহ চার জন আহত হন। তাঁদের মিনাখাঁ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে।
এই ঘটনার পর গোটা এলাকা জুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাতভর টহল চালানো হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। আটক ন’জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার নেপথ্য কারণ জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সন্দেশখালির নাম উঠে এসেছিল আগেও কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার উপর হামলার ঘটনায়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি সন্দেশখালিতে শাহজাহান শেখের বাড়িতে অভিযান চালাতে গিয়ে হামলার মুখে পড়ে ইডি। ইডির দাবি ছিল, সে দিন প্রায় ৮০০ থেকে ১০০০ জন শাহজাহানের অনুগামী তাঁদের ঘিরে ধরেছিল। সেই হামলায় ইডির তিন আধিকারিক আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন, মাথা ফাটে এক জনের। সেই দিন শাহজাহানের দেখা না পেয়ে অভিযান অসম্পূর্ণ রেখেই ফিরে যেতে হয় ইডিকে।
পরে আদালতে ইডি জানায়, শাহজাহান সে দিন বাড়ির ভিতরেই ছিলেন। ফোন করে বাইরে লোক জড়ো করেন বলেও অভিযোগ ওঠে। হট্টগোলের মাঝেই পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি। বর্তমানে শাহজাহান জেলবন্দি। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছে। এমনকি জেলে বসেও সন্দেশখালির বাসিন্দাদের হুমকি ও হুঁশিয়ারি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
ফলে সন্দেশখালিতে ফের পুলিশের উপর হামলার অভিযোগ উঠতেই পুরনো স্মৃতি উসকে উঠেছে।