রাজ্যের দাবি, বারবার অনাস্থা এনে পঞ্চায়েত স্তরে যে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল, তার অবসান ঘটাতেই এই পদক্ষেপ। সরকারের মতে, এতে পঞ্চায়েতগুলির কার্যকর স্থায়িত্ব বাড়বে এবং পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়নমূলক কাজ তৃণমূল স্তরে আরও মজবুতভাবে পৌঁছনো সম্ভব হবে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 7 February 2026 16:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তদশ বিধানসভার অধিবেশনের (Budget Session) শেষ দিনে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য সরকার (State Govt)। পঞ্চায়েত দফতরের একটি সংশোধনী বিল পাশ হল বিধানসভায় (Bidhansabha)। এই বিল অনুযায়ী, কোনও পঞ্চায়েত (Panchayet) প্রতিষ্ঠান গঠনের অন্তত তিন বছর না হলে আর অনাস্থা প্রস্তাব আনা যাবে না। আগে এই সময়টা এক বছর ছিল। ২০১৫ তে বাড়িয়ে আড়াই বছর করা হয়, এখন সেটা বাড়িয়ে তিন বছর করা হল।
রাজ্যের দাবি, বারবার অনাস্থা এনে পঞ্চায়েত স্তরে যে প্রশাসনিক অস্থিরতা তৈরি হচ্ছিল, তার অবসান ঘটাতেই এই পদক্ষেপ। সরকারের মতে, এতে পঞ্চায়েতগুলির কার্যকর স্থায়িত্ব বাড়বে এবং পরিষেবা প্রদান ও উন্নয়নমূলক কাজ তৃণমূল স্তরে আরও মজবুতভাবে পৌঁছনো সম্ভব হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রধান ও উপপ্রধান, পঞ্চায়েত সমিতিতে সভাপতি ও সহকারী সভাপতি এবং জেলা পরিষদে সভাধিপতি ও সহকারী সভাধিপতিদের বিরুদ্ধে গঠনের প্রথম তিন বছরে আর অনাস্থা আনা যাবে না।
শনিবার বিধানসভার শেষ অধিবেশনের শেষ বিল হিসেবে এই সংশোধনী পেশ করেন রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী প্রদীপ মজুমদার (Pradip Majumder)। তিনি বলেন, তিন বছরের মধ্যে অনাস্থা আনা হয় তাহলে সাধারণ মানুষের জন্যই কাজ করতে অসুবিধা হবে। সরকারের তো মূল লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়া। সেই প্রেক্ষিতে তিন বছরের আগে যাতে অনাস্থা না আনা যায়, তার প্রস্তাব।
শেষ অধিবেশনে ধন্যবাদ জ্ঞাপন পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস বলেন, বিরোধীরা সঠিক প্রশ্ন তুলতে না পারায় সরকার পক্ষকে বিব্রত করার সুযোগই পায়নি। একইসঙ্গে তিনি দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস ফের ক্ষমতায় ফিরবে ২৫০-র বেশি আসন নিয়ে। বক্তব্যের শেষে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।
অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করতে গিয়ে স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সপ্তদশ বিধানসভা পরিচালনার পথে তাঁর অনেক সিদ্ধান্তে কেউ সন্তুষ্ট, কেউ অসন্তুষ্ট হতে পারেন। তবে বিধানসভা সুষ্ঠুভাবে চালানোর স্বার্থেই কখনও কখনও কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়েছে - তা কোনও ব্যক্তিগত কারণে নয়।
স্পিকারের কথায়, “আজ মনে হচ্ছে, শেষ হয়েও যেন শেষ হল না। বিরোধীরা বিরোধীর ভূমিকা পালন করবে, সরকার তাদের দায়িত্ব নেবে।” এরপর তিনি হাউস অনির্দিষ্টকালের জন্য মুলতুবি—সিনে ডাই—ঘোষণা করেন। পাশাপাশি জানান, সরকার চাইলে অষ্টাদশ বিধানসভার আগে আবার অধিবেশন ডাকতে পারে।