চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়ায় এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, খুন করে তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

বেলডাঙা অশান্তি
শেষ আপডেট: 12 February 2026 12:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা মামলার (Murshidabad Beldanga Case) অভিযুক্তদের ফের এনআইএ-র বিশেষ আদালতে পেশ করা গেল না। এনিয়ে টানা দ্বিতীয়বার এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আদালতের স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের কলকাতার এনআইএ (NIA) আদালতে আনতে পারেনি বহরমপুর জেল কর্তৃপক্ষ। যার মূল কারণ পুলিশ এসকর্ট না পাওয়া।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ ‘রেডিওগ্রাম’-এর মাধ্যমে জানিয়েছে, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (HS Exam) শুরু হওয়ায় পর্যাপ্ত পুলিশবাহিনী পাওয়া যাচ্ছে না। তাই এসকর্ট দেওয়া সম্ভব নয়। এই পরিস্থিতিতে বহরমপুর জেলের তরফে অভিযুক্তদের ভার্চুয়ালি আদালতে পেশের অনুরোধ জানানো হয়। তবে তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
কী নিয়ে বেলডাঙা মামলা?
চলতি বছরের জানুয়ারির শুরুতে মুর্শিদাবাদ (Murshidabad) জেলাজুড়ে উত্তেজনা ছড়ায় এক শ্রমিকের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে। অভিযোগ, খুন করে তাঁর দেহ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মৃতদেহ এলাকায় পৌঁছতেই বিক্ষোভ বাড়তে থাকে। টায়ার জ্বালিয়ে রাস্তা অবরোধ থেকে শুরু করে রেললাইন আটকে দেওয়া- পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যায়। শিয়ালদহ–লালগোলা শাখার (Sealdah-lalgola Train) মহেশপুরের কাছে রেললাইনে বাঁশ ফেলে অবরোধ করেন স্থানীয়রা। বাঁশে ঝোলানো ছিল মৃতদেহের ছবি। পুলিশ পৌঁছনোর পর উত্তেজনা আরও বাড়ে। স্থানীয়দের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়ায় পুলিশ। সাংবাদিকরাও আক্রান্ত হন।
ঘটনার গুরুত্ব বিচার করে তদন্তভার চলে যায় এনআইএ-র হাতে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, এই মামলার তদন্ত করবে কেন্দ্রীয় সংস্থা এনআইএ।
অভিযোগ, রাজ্যের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা
তদন্ত শুরু হওয়ার পর থেকেই এনআইএ-র (NIA) দাবি, অভিযুক্তদের আদালতে পেশের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করছে রাজ্য। বহরমপুর জেল থেকে কলকাতার এনআইএ আদালতে 'হাই রিস্ক' হিসেবে চিহ্নিত মোট ৩৬ জন অভিযুক্তকে আনার জন্য প্রয়োজনীয় পুলিশ এসকর্ট দিচ্ছে না জেলা পুলিশ।
বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও একই কারণ দেখিয়ে এসকর্ট দেওয়া হয়নি। ফলে টানা দ্বিতীয়দিনও আদালতে পেশ করা যায়নি অভিযুক্তদের।
এই অবস্থায় এনআইএ (NIA) সূত্রে আশঙ্কা, অভিযুক্তদের উপস্থিতি ছাড়া মামলার অগ্রগতি বারবার থমকে যাচ্ছে। আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও অভিযুক্তদের হাজিরা না হওয়ায় অসহযোগিতার অভিযোগ ফের জোরালো হচ্ছে।
বেলডাঙা মামলায় (Murshidabad Beldanga Case) তদন্ত এগিয়ে নিতে অভিযুক্তদের শারীরিকভাবে আদালতে হাজিরা অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার নিরাপত্তাজনিত কারণে এসকর্ট না মেলায় প্রশ্ন উঠছে, এই পরিস্থিতি কতদিন চলবে এবং এনআইএ তদন্ত কতটা বিলম্বিত হবে? ভবিষ্যৎ নির্দেশ বা সমাধানের জন্য এখন নজর আদালতের দিকে।