১৮২ তরুণীর নগ্ন ভিডিও, ব্ল্যাকমেল করতে গিয়ে গ্রেফতার কলকাতার ৩ যুবক
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৩ সাল থেকে একের পর এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁদের নগ্ন ভিডিও তুলে রেখেছিল কলকাতার দুই যুবক। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা কামাতে গিয়েছিল তারা। অবশেষে কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়ল দুই যুবক-সহ তিনজন
শেষ আপডেট: 29 January 2020 04:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০১৩ সাল থেকে একের পর এক তরুণীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে তাঁদের নগ্ন ভিডিও তুলে রেখেছিল কলকাতার দুই যুবক। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেল করে টাকা কামাতে গিয়েছিল তারা। অবশেষে কলকাতা পুলিশের হাতে ধরা পড়ল দুই যুবক-সহ তিনজন।
পুলিশ সূত্রে খবর, গত নভেম্বর মাসে এক তরুণীর কাছে ফোন করে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি হুমকি দেয়, তার কাছে তরুণীর নগ্ন ভিডিও রয়েছে। ১০ লক্ষ টাকা না দিলে তা ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে কিছুটা ভয় পেয়ে গেলেও তারপর লালবাজারের সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে অভিযোগ করেন ওই তরুণী। তদন্তে নামে লালবাজারের সাইবার ক্রাইম সেল। ফোনের নম্বর ট্রেস করে গ্রেফতার করা হয় কৈলাশ যাদব নামের এক ব্যক্তিকে।
লালবাজার সূত্রে খবর, কৈলাশকে জেরা করে আনিশ লোহারকর ও আদিত্য আগরওয়াল নামে দুজনের নাম উঠে আসে। আনিশের কাছেই কাজ করত কৈলাশ। আদিত্য এক নামী পোশাক বিপণি সংস্থার মালিকের ছেলে বলে জানা গিয়েছে। দুজনকেই গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের জেরা করতেই বেরিয়ে আসে অনেক তথ্য, যা শুনে অবাক হয়ে যাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরাই।

জানা গিয়েছে, জেরায় আনিশ ও আদিত্য বলে, ২০১৩ সাল থেকে একের পর এক তরুণীর সঙ্গে তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছে। নিজেদের স্ট্যাটাস ও টাকার জোরে সহজেই মেয়েদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হয়ে যেত তারা। তারপর ঘনিষ্ঠ মুহূর্তে সেই মেয়েদের নগ্ন ভিডিও তুলে রাখত। এভাবে মোট ১৮২ জন তরুণীর ভিডিও তাদের কাছে রয়েছে। প্রথমে সেই ভিডিও শুধুমাত্র নিজেদের জন্য রাখার কথা ভাবলেও গত বছর তারা ঠিক করে সেই ভিডিওর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করবে। তবে নিজেরা না করে পরিচারক কৈলাশকে দিয়ে ফোন করাত তারা। এক তরুণীর কাছে ৫ লক্ষ টাকা নিয়েছে বলেও স্বীকার করেছে তারা।
আনিশ ও আদিত্যর ফোন ও ল্যাপটপ পরীক্ষা করে সেইসব ভিডিও উদ্ধার করেছে পুলিশ। এছাড়া ভিডিওর কথা বলে ব্ল্যাকমেল করার একাধিক হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক চ্যাটও উদ্ধার করেছে পুলিশ। সেইসব তরুণীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। তাঁরা দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করতে চান কিনা সে ব্যাপারে কথা বলছে পুলিশ। মঙ্গলবার আনিশ ও আদিত্যকে ব্যাঙ্কশাল কোর্টে তোলা হয়। তাদের ৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।