কোলে একরত্তি বাচ্চা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “শাশুড়ির তো চাকরি হয়ে গেল। কিন্তু আমার আর আমার বাচ্চার দায়িত্ব কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞেস করছিলেন, তখন ওরা বলে দিল আমি কাজ করতে পারব না।”

মৃত প্রীতম ঘোষ।
শেষ আপডেট: 28 November 2025 13:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে বারাসত মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (Barasat Hospital) ‘চোখ চুরি’-র অভিযোগে তিন সদস্যের বিশেষজ্ঞ দল যে তদন্তে নামে, তার রিপোর্ট বৃহস্পতিবার জমা প[ড়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ ও রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরে।
রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—মৃত প্রীতম ঘোষের চোখ উপড়ে নেওয়ার কোনও প্রমাণ মেলেনি ('eye theft' mystery! Report finds no evidence)। কলেজের এমএসভিপি অভিজিৎ সাহার কথায়, “বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ইঁদুর জাতীয় কোনও প্রাণী মৃতদেহের চোখ খুবলে নিয়েছে। মানবিক হস্তক্ষেপের প্রমাণ নেই।”
অর্থাৎ সরকারি হাসপাতাল থেকে 'চোখ চুরি'র যে অভিযোগ উঠেছিল, তা খারিজ করা হল সরকারি রিপোর্টে। বস্তুত, 'চোখ চুরি'র অভিযোগেই গত কয়েকদিন ধরে হাসপাতালে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন নিহতর পরিবার এবং স্থানীয়দের একাংশ। ফলে হাসপাতালের রিপোর্ট সামনে আসতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন তাঁরা। স্বচ্ছ তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছে বিজেপিও। বৃহস্পতিবার তারা হাসপাতাল চত্বরে বিক্ষোভও দেখায়। তবে সুপারের আশ্বাস, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা যাতে আর না ঘটে, সেদিকে কড়া নজর রাখা হবে।
এদিকে, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আশ্বাস অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারই বারাসতে জেলা ভূমি সংস্কার বিভাগে কাজ পেয়েছেন প্রীতমের মা কৃষ্ণা ঘোষ। নিয়োগপত্র হাতে পেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, "এই চাকরি না হলে সংসার চালানো মুশকিল হয়ে যেত।”
তবে অন্য আশঙ্কার কথা শুনিয়েছেন প্রীতমের স্ত্রী কেয়া ঘোষ। কোলে একরত্তি বাচ্চা নিয়ে সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, “শাশুড়ির তো চাকরি হয়ে গেল। কিন্তু আমার আর আমার বাচ্চার দায়িত্ব কে নেবে? মুখ্যমন্ত্রী জিজ্ঞেস করছিলেন, তখন ওরা বলে দিল আমি কাজ করতে পারব না।”
ফলে প্রীতমের মৃত্যুর পর প্রশাসনিক তৎপরতা প্রশংসনীয় হলেও পরিবারের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েন নতুন সঙ্কট তৈরি করছে।