বিধাননগর রোড স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখেরও বেশি যাত্রী ওঠানামা করেন। সরু প্ল্যাটফর্ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। তাই রেলওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিয়ালদহ থেকে ছাড়া সব আপ লোকাল ট্রেন (নৈহাটি, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, গেদে, লালগোলা প্রভৃতি রুটে) চলবে শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১ থেকে। অন্যদিকে, এক্সপ্রেস, মেল ও সাবারবান ট্রেনগুলো চলবে প্ল্যাটফর্ম নম্বর ২ দিয়ে।

Bidhannagar Road and Dum Dum Junction
শেষ আপডেট: 15 October 2025 19:30
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যাত্রীদের ভিড় আর ঠেলাঠেলিতে হাঁফিয়ে উঠেছিল বিধাননগর রোড ও দমদম জংশন স্টেশন। এবার সেই দৃশ্য বদলাতে চলেছে। দুই ব্যস্ততম স্টেশনে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও যাত্রীদের যাতায়াত আরও স্বস্তিদায়ক করতে বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে ইস্টার্ন রেলওয়ে।
বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে শিয়ালদহের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা জানান, শিয়ালদহ ডিভিশন দুটি স্টেশনে নতুনভাবে প্ল্যাটফর্ম ভাগ করে, হকারমুক্ত পরিবেশ গড়ে তুলে ও আগেভাগে ঘোষণা ব্যবস্থা চালু করে যাত্রী চলাচল আরও সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য যাত্রীদের যাত্রা আরও নিরাপদ ও আরামদায়ক করা।”
বিধাননগর রোড স্টেশনে প্রতিদিন প্রায় দেড় লাখেরও বেশি যাত্রী ওঠানামা করেন। সরু প্ল্যাটফর্ম আর অব্যবস্থাপনার কারণে ভিড় সামলানো কঠিন হয়ে উঠেছিল। তাই রেলওয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, শিয়ালদহ থেকে ছাড়া সব আপ লোকাল ট্রেন (নৈহাটি, রানাঘাট, কৃষ্ণনগর, গেদে, লালগোলা প্রভৃতি রুটে) চলবে শুধুমাত্র প্ল্যাটফর্ম নম্বর ১ থেকে। অন্যদিকে, এক্সপ্রেস, মেল ও সাবারবান ট্রেনগুলো চলবে প্ল্যাটফর্ম নম্বর ২ দিয়ে।
ভিড় কমাতে বিধাননগর রোডে আটটি এক্সপ্রেস ট্রেনের স্টপেজ তুলে নেওয়া হচ্ছে। রেল সূত্রে জানা গেছে, প্রতিটি ট্রেনে দৈনিক মাত্র দুই থেকে পাঁচজন যাত্রী ওঠানামা করেন। তাই বড় ভিড়ের স্টেশনে এই ট্রেনগুলির অপ্রয়োজনীয় থামানো বন্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, পুরো স্টেশন এলাকাকে ঘোষণা করা হবে ‘ভেন্ডর-ফ্রি জোন’। অর্থাৎ, কোনও হকার বা দোকানদার প্ল্যাটফর্মে বসতে পারবেন না। যাত্রীদের সুবিধার জন্য ট্রেনের ঘোষণা আগেভাগে দেওয়া হবে, যাতে বিভ্রান্তি না হয়।
দমদম জংশনে নেওয়া হচ্ছে আরও গোছানো ব্যবস্থা। মেইন লাইনের ট্রেনগুলো থাকবে প্ল্যাটফর্ম ১ ও ২–এ, আর সার্কুলার লাইন ও কলকাতা টার্মিনাল দিকের ট্রেনগুলো থাকবে প্ল্যাটফর্ম ৩, ৪ ও ৫–এ। দ্বিতীয় প্রবেশপথে নতুন বুকিং অফিসও ইতিমধ্যেই চালু হয়েছে, যাতে যাত্রীদের ভিড় ছড়িয়ে যায় এবং চলাচল আরও সহজ হয়।
এই নতুন ব্যবস্থা কয়েকদিন পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হবে। সব কিছু ঠিকঠাক চললে তা স্থায়ীভাবে চালু করা হবে বলে জানিয়েছে শিয়ালদহ ডিভিশন।
রেলওয়ের আশা, নতুন এই পদক্ষেপের ফলে বিধাননগর রোড ও দমদম জংশনের মতো ব্যস্ত স্টেশনগুলোয় ভিড় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে, যাত্রীরা আরামদায়কভাবে উঠতে-নামতে পারবেন, আর সারাদিনের ট্রেনযাত্রা হবে আরও নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত।