অ্যানাস্থেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে স্ত্রীকে খুনের অভিযোগে ছ'মাস পলাতক থাকার পর অবশেষে কর্নাটক থেকে গ্রেফতার হলেন এক চিকিৎসক-স্বামী। ঘটনার তদন্তে নেমে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

ডঃ রেড্ডি ও তাঁর স্ত্রী
শেষ আপডেট: 15 October 2025 19:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মৃত্যু হয়েছিল ছ’মাস আগে, কিন্তু তা স্বাভাবিক নয়, প্রমাণ মিলতেই বেঙ্গালুরুতে গ্রেফতার হলেন স্বামী। অভিযোগ, স্ত্রীকে অ্যানাস্থেশিয়ার অতিরিক্ত ডোজ দিয়ে খুন করেছেন চিকিৎসক ডঃ মহেন্দ্র রেড্ডি।
ডঃ কৃতিকা রেড্ডির মৃত্যু হয় গত ২১ এপ্রিল। তিনি ছিলেন ডার্মাটোলজিস্ট। দু’জনেই বেঙ্গালুরুর ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে একসঙ্গে কাজ করতেন। অভিযোগ ওঠে, ২১ তারিখ পূর্ব বেঙ্গালুরুর মুনেকোল্লাল এলাকার নিজের বাড়িতে স্ত্রীকে অ্যানাস্থেশিয়া জাতীয় ইনজেকশনের অতিরিক্ত ডোজ দেন মহেন্দ্র। কিছুক্ষণের মধ্যেই অসুস্থ হয়ে পড়েন কৃতিকা। যুবক তাঁকে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই তাঁর মৃত্যু হয়।
প্রাথমিকভাবে মারাথাল্লি থানায় ‘অস্বাভাবিক মৃত্যু’র মামলা রুজু হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে সিন অফ ক্রাইম অফিসার (SOCO) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ উদ্ধার করেন, পাওয়া যায় ইনজেকশন টিউব, ক্যানুলা সেট-সহ আরও কিছু চিকিৎসা-সংক্রান্ত সামগ্রী। এগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
মৃতদেহের ভিসেরা স্যাম্পল সংগ্রহ করে ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরিতে (FSL) পাঠায় পুলিশ। সেখান থেকে পাওয়া রিপোর্টে দেখা যায়, কৃতিকার দেহে প্রোপোফল (Propofol) নামের এক শক্তিশালী অ্যানাস্থেশিয়া ড্রাগের উপস্থিতি রয়েছে। সেই রিপোর্টে স্পষ্ট হয়, মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, বরং এটি পরিকল্পিত খুন।
এই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর কৃতিকার বাবা ১৩ অক্টোবর পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জানান, তাঁর জামাই মহেন্দ্র রেড্ডি-ই মেয়েকে অ্যানাস্থেশিয়ার ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় দিয়ে খুন করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ১৪ অক্টোবর উপকূলীয় কর্নাটকের মানিপাল শহর থেকে মহেন্দ্রকে গ্রেফতার করে।
বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার সীমন্থ কুমার সিং জানিয়েছেন, যতটা প্রমাণ মিলেছে, তাতে এই খুনে মহেন্দ্রর ভূমিকা স্পষ্ট। স্ত্রীকে হাসপাতালে তিনিই নিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু কোনও অসঙ্গতির কথা উল্লেখ করেননি। পরে জানা যায়, তাঁকে সেডেটিভ ইনজেকশন দেওয়া হয়েছিল। বিষয়টি পরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে, তাই বিস্তারিত তদন্ত চলছে।
পুলিশের অনুমান, অভিযুক্ত চিকিৎসক নিজের পেশাগত জ্ঞান ব্যবহার করে ঘটনাটিকে স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো দেখানোর চেষ্টা করেছিলেন। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং আরও তদন্ত চলছে। কী কারণে খুন তা পরিবারের কেউ বুঝে উঠতে পারছেন না। জিজ্ঞাসাবাদ করে সেবিষয়েও জানার চেষ্টা করা করছেন আধিকারিকরা।