চা-বাগানের বুকে দাঁড়িয়ে বিশাল বাংলোটি যেন জীবন্ত ইতিহাস। কাঠের আসবাব, ভিন্টেজ সাজসজ্জা, ব্রিটিশ আমলের স্ট্যান্ড ফ্যান, শিকাগোর টেলিফোন— সবকিছুই যেন এক অন্য জগতের দরজা খুলে দেয়।

ছবি - সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 23 September 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজোয় পাহাড়-জঙ্গল-চা-বাগান মানেই ভিড়। কিন্তু এবার ডুয়ার্সে (Dooars tour) অপেক্ষা করছে অন্য রকম এক অভিজ্ঞতা। গোরুমারা জাতীয় উদ্যানের পাশেই বড়দিঘি চা বাগান। আর সেখানেই দাঁড়িয়ে আছে এক ইতিহাস— ব্রিটিশ ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং ১৮৫৮ সালে যাঁর আতিথ্য গ্রহণ করেছিলেন, সেই সাহেবি বাংলো (British Bungalow in tea garden)। দেড়শো বছরের পুরনো ওই হেরিটেজ বাংলোতেই এখন থেকে আপনি-আমি সাধারণ পর্যটকও কাটাতে পারি পুজোর ছুটি!
চা-বাগানের বুকে দাঁড়িয়ে বিশাল বাংলোটি যেন জীবন্ত ইতিহাস। কাঠের আসবাব, ভিন্টেজ সাজসজ্জা, ব্রিটিশ আমলের স্ট্যান্ড ফ্যান, শিকাগোর টেলিফোন— সবকিছুই যেন এক অন্য জগতের দরজা খুলে দেয়। সাহেবি আদবকায়দার সঙ্গে বাঙালিয়ানার মিশেল মুগ্ধ করে দেবে ভ্রমণপ্রেমীদের।
এখানকার আয়োজনও রাজকীয়। সুইমিং পুল, লাইব্রেরি, বৈঠকখানা, নেচার ওয়াক, জিপসি সাফারি, ইন্ডোর-আউটডোর গেম জোন— সবই হাতের মুঠোয়। বিকেলে চা-বাগানে হাঁটতে হাঁটতে পৌঁছে যেতে পারেন নেওড়া নদীর পাড়ে। সেখান থেকে সূর্যাস্তের রঙে রঙিন হয়ে উঠবে মন। সন্ধ্যায় লনে বসে হাতে দার্জিলিং চা, আর দূরে ময়ূরের ডাক— একেবারে ছবির মতো অভিজ্ঞতা।
খাওয়াদাওয়াতেও মিলবে বৈচিত্র। পুজোয় থাকছে বিশেষ ‘দশভুজা থালি’ (Dasbhuja thali in Durga Puja)— গরমভাতে ঘি, বেগুনি, চাটনি, পায়েস সবই। চাইলে মিলবে কন্টিনেন্টাল, চাইনিজ, কিংবা খাঁটি বাঙালি রান্না। সকালে মিলবে ব্রিটিশ স্টাইলে ব্রেকফাস্ট, আর ইচ্ছে হলে থাকবে লুচি-আলুরদমের খাঁটি স্বাদ।
তবে রাজকীয় ছুটি কাটাতে পকেট একটু ঢিল করতে হবে। বাংলোর ডাবল বেডরুম ভাড়া শুরু হচ্ছে ৭ হাজার টাকা থেকে, সঙ্গে কপ্লিমেন্টারি ব্রেকফাস্ট। ছ’টি পরিপাটি ঘর, ব্রিটিশ আমলের সাজসজ্জা, আর অতিথিদের জন্য বিশেষ ওয়েলকাম ড্রিঙ্কস— প্রতিটি মুহূর্তে মিলবে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা।
চা-বাগানের ম্যানেজার সুরজিৎ সাহা গর্বভরে বললেন— “এ বাংলোটি শুধু ইতিহাস নয়, স্মৃতির ভাণ্ডার। অতিথিরা এখানে এলে সত্যিকারের ডুয়ার্সের মায়া অনুভব করবেন।”
এই পুজোয় তাই পাহাড়-ঝর্ণার ভিড় এড়িয়ে একবার চেষ্টা করতেই পারেন ডুয়ার্সের সাহেবি বাংলোর রাজকীয় ছুটি।