প্রবল বৃষ্টি আর ধারাবাহিক ধসে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় (North Bengal)।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 6 October 2025 11:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রবল বৃষ্টি আর ধারাবাহিক ধসে বিপর্যস্ত দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড় (North Bengal)। শনিবার রাত থেকে রবিবার রাত পর্যন্ত প্রশাসনের তৎপরতায় ধসকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে শতাধিক পর্যটককে। যারা এখনও পাহাড়ে আটকে রয়েছেন, তাঁদের হোটেলে থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য চালু করা হয়েছে বিশেষ হেল্পলাইন ও হেল্প ডেস্ক।
এরই মধ্যে আটকে থাকা পর্যটকদের সুবিধার্থে অতিরিক্ত বাস চালানোর সিদ্ধান্ত নিল এনবিএসটিসি (NBSTC)। দুর্যোগের জন্য রবিবার এনবিএসটিসি চারটি অতিরিক্ত বাস নামিয়ে ছিল। সোমবার আরও ছয়টি নামানো হল।
শিলিগুড়ি ডিভিশনাল ম্যানেজার সৌভিক দে জানিয়েছেন, “রবিবার চারটি স্পেশাল বাস চালানো হয়েছে। সোমবার আরও ছয়টি নামানো হবে। পাশাপাশি কোচবিহার ডিভিশন থেকেও অতিরিক্ত বাস আনার চেষ্টা চলছে।”
পুজোর ছুটিতে ভিড় জমেছিল পাহাড়ে। কিন্তু হঠাৎ প্রবল বর্ষণে একের পর এক জায়গায় ধস নেমে কার্যত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে পাহাড় ও সমতল। দার্জিলিংয়ের সুখিয়াপোখরি, জোরবাংলো, ঘুম, তাবাকোশি— সর্বত্রই বিপর্যয়। এক পর্যটক জানান, “অফবিট স্পটে বেড়াতে এসে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ব ভাবিনি। পুলিশের সাহায্যে কোনওরকমে শিলিগুড়ি ফিরতে পেরেছি।”
মিরিকের ভয়াবহ অবস্থার জেরে অনেকে সফর মাঝপথেই বাতিল করেন। রবিবার সকাল থেকেই পাহাড় থেকে নামার রাস্তায় লম্বা যানজট। ট্রাফিক পুলিশ ‘ওয়ান-ওয়ে’ পদ্ধতিতে পরিস্থিতি সামাল দেয়। দার্জিলিংয়ের মহকুমাশাসক রিচার্ড লেপচা বলেন, "বেশ কয়েকটি দলকে নিরাপদে সমতলে পাঠানো হয়েছে। বড় কোনও দুর্ঘটনা ঘটেনি।” কালিম্পংয়ের জেলাশাসক বালাসুব্রহ্মণিয়ান টি জানান, পর্যটকদের সমস্যা এড়াতে নিরন্তর নজরদারি চলছে।
অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে শিলিগুড়ি পুরসভা দুটি হেল্প ডেস্ক চালু করেছে — রোহিনীতে ও শিলিগুড়ি শহরে। হেল্পলাইন নম্বর: ৭৫৫৭০৩৫১৯৪।
পাহাড়ে এখনও মাঝে মাঝে বৃষ্টি চলছে। প্রশাসনের অনুরোধ, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন অযথা ভ্রমণে না যান।