নওশাদ এদিন বলেন, ''২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপিকে হারাতে হবে এটাই মূল লক্ষ্য। তার জন্য যত ধর্মনিরপেক্ষ দল রয়েছে তাদের একজোট হতে হবে। কিন্তু কে কার সঙ্গে জোট করবে বা বৈঠক করবে তা আমি ঠিক করে দিতে পারি না।''

নওশাদ সিদ্দিকী
শেষ আপডেট: 29 January 2026 14:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটের (West Bengal Elections 2026) আর বেশি দেরি নেই। রাজনৈতিক দলগুলি মোটামুটিভাবে নিজেদের প্রচারও শুরু করে দিয়েছে। এই আবহে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে সিপিএম (CPM) ও হুমায়ুন কবীরের ‘সদ্যোজাত দল’ জনতা উন্নয়ন পার্টির (JUP) 'ঘনিষ্ঠতা'। বুধবার রাতে নিউ টাউনের একটি হোটেলে প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বৈঠক করেন সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম (Md Salim) এবং জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)। এই বৈঠক নিয়ে আরও এক তৃণমূল-বিজেপি বিরোধী নেতা নওশাদ সিদ্দিকী (Nausad Siddique) কী বলছেন?
কে কার সঙ্গে বৈঠক করছে সেটা আমি ঠিক করে দিতে পারি না - প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় এমনটাই জানিয়েছেন নওশাদ (Nausad Sddique)। তবে একই সঙ্গে তৃণমূল এবং বিজেপি বিরোধী যারা রয়েছেন তাঁদের একজোট হওয়ার বার্তাও দিয়েছেন তিনি। নওশাদ এদিন বলেন, ''২৬-এর নির্বাচনে তৃণমূল এবং বিজেপিকে হারাতে হবে এটাই মূল লক্ষ্য। তার জন্য যত ধর্মনিরপেক্ষ দল রয়েছে তাদের একজোট হতে হবে। কিন্তু কে কার সঙ্গে জোট করবে বা বৈঠক করবে তা আমি ঠিক করে দিতে পারি না।''
সিপিএম-এর সঙ্গে বৈঠকের পর হুমায়ুন প্রকাশ্যে জানান, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তিনি সিপিএম ও আইএসএফের সঙ্গে জোটবদ্ধ (CPM ISF Alliance) হয়ে লড়াই করতে আগ্রহী। আইএসএফের সঙ্গে কথাবার্তার দায়িত্ব তিনি সিপিএমের উপরেই ছেড়ে দিতে চান বলেও জানান। এই ইস্যুতে নওশাদের সাফ কথা, যে কেউই স্বাগত জানাতেই পারেন। তবে এই মুহূর্তে তিনি এই নিয়ে কিছু ভাবেন না।
যদিও এটুকু নওশাদ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, বিগত এক বছর ধরে তৃণমূল-বিজেপি বিরোধীদের একজোট করার চেষ্টা করছেন তিনি। কংগ্রেসকে চিঠি দিয়েছেন, সিপিএম-এর সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করার চেষ্টা করেছেন। আশা করছেন, খুব তাড়াতাড়ি গোটা বিষয়টি নিয়ে ভাবনা পরিষ্কার হবে।
কী আলোচনা হয়েছে বৈঠকে
সূত্রের খবর, নিউটাউনের আলোচনায় আসন সমঝোতা এবং একে অপরের বিরুদ্ধে প্রার্থী না দেওয়ার মতো বিষয়ও উঠে এসেছে। অন্যদিকে, সেলিমের বক্তব্য, হুমায়ুন বিভিন্ন মাধ্যমে যোগাযোগ করছিলেন। সেই মতোই তাঁর সঙ্গে দেখা করা।
হুমায়ুন নতুন দল করলে তাঁর সঙ্গে যে কথা বলবেন সেটা আগেই জানিয়েছিলেন সেলিম। আজকের বৈঠকে তিনি সেই মতোই হুমায়ুনের ভাবনার কথা শুনেছেন। বাকিটা দলের উপর।
এই বৈঠকের খবর ছড়িয়ে পড়তেই সিপিএমের অন্দরে তৈরি হয়েছে নানাবিধ প্রতিক্রিয়া। বিশেষত উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির উদ্বাস্তু অধ্যুষিত এলাকাগুলিতে দলের সংগঠন নিয়ে নাকি উদ্বেগ প্রকাশ করছেন অনেক নেতা।
অনেকেই মনে করেন, যাঁর বিরুদ্ধে বাবরি মসজিদ নির্মাণের অভিযোগ ওঠে, তাঁর সঙ্গে জোট করলে বামেদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবস্থান ও সামাজিক ভিত্তি আরও সংকুচিত হতে পারে।
এখন নওশাদ এবং তাঁর দল কী অবস্থান নেয়, সেটাই দেখার।