এক আন্দোলনকারী বলেন, “এই লড়াই গণআন্দোলন হয়ে গিয়েছে। সরকার চায় চাপা দিতে, কিন্তু রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষই।”

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 9 August 2025 12:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নবান্ন অভিযান (Nabanna Abhijan) ঘিরে সকাল থেকেই হাওড়া ও আশপাশের এলাকা কার্যত পুলিশি ঘেরাটোপে (Police , Surveillance)। একদিকে পুলিশি তৎপরতা, অন্যদিকে মিছিল ও বিক্ষোভে কার্যত অচল হয়ে পড়ল নবান্ন সংলগ্ন বিস্তীর্ণ অঞ্চল। ভোগান্তির শিকার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে হাওড়া ময়দান, শিবপুর, সাঁতরাগাছি থেকে নবান্নমুখী পথে থাকা বাসিন্দারা (Residents of Howrah ,Suffering)।
শনিবার সকাল থেকেই নবান্ন অভিমুখে যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ সড়কে শুরু হয় পুলিশি ব্যারিকেড, গাড়ি তল্লাশি ও রুট ডাইভারশন। ফোরশোর রোড, লিলুয়া, সাঁতরাগাছি, হাওড়া ময়দান—সব জায়গাতেই দেখা মিলেছে পুলিশি নাকা চেকিং। সরকারি অফিস, বাজার, স্কুলগামীদেরও পড়তে হয়েছে চরম ভোগান্তিতে।
অন্যদিকে, আন্দোলনকারীদের দাবি, আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসক ছাত্রী অভয়া হত্যা-কাণ্ডের বিচার না হওয়ায় ক্ষোভে উত্তাল সাধারণ মানুষ। তাদের অভিযোগ, সিবিআই তদন্তে গাফিলতি রয়েছে। সরকারের ভূমিকা নিয়েও সরব আন্দোলনকারীরা। এক আন্দোলনকারী বলেন, “এই লড়াই গণআন্দোলন হয়ে গিয়েছে। সরকার চায় চাপা দিতে, কিন্তু রাস্তায় নেমেছে সাধারণ মানুষই।”
পুলিশ সূত্রে খবর, আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। বহু জায়গায় প্রয়োজন অনুযায়ী রুট পরিবর্তন করা হয়েছে। ভোগান্তি এড়াতে শুক্রবার পুলিশের তরফে বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছিল। তবে এর ফলে যে সাধারণ মানুষকে অসুবিধায় পড়তে হয়েছে, তা স্বীকার করছে প্রশাসনের একাংশও।
হাওড়ার এক বাসিন্দার কথায়, “বাড়ি থেকে বেরোতেই আটকে দিল পুলিশ। স্কুলে বাচ্চাকে পৌঁছোতে এক ঘণ্টা লেগে গেল। গাড়ি ঘুরিয়ে দিল, ঘুরপথে গিয়ে পৌঁছতে হয়।”
রাজনৈতিক মহলের মতে, এদিনের নবান্ন অভিযান শুধু পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘাতের ছবি নয়, বরং শহরের জনজীবনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। সরকারের জন্য যেমন চাপের দিন, তেমনই দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ।