তমলুকে ভাড়া বাড়িতে রহস্যজনকভাবে মৃত দমদমের চিকিৎসক শালিনী দাস। হাতের চ্যানেল থেকে রক্তপাত ঘিরে উঠেছে একাধিক প্রশ্ন, তদন্তে তমলুক থানার পুলিশ।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 October 2025 12:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পূর্ব মেদিনীপুরের তমলুকে ভাড়া বাড়িতে এক মহিলা চিকিৎসকের রহস্যজনক মৃত্যু। নাম শালিনী দাস, কলকাতার দমদম এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। শেষ তিন মাস ধরে কর্মরত ছিলেন কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের অ্যানাস্থেসিয়া বিভাগে। প্রায় দু’বছর তমলুক হাসপাতালে কাজ করার পর তিন মাস আগে তাঁর বদলি হয় কাঁথিতে।
তবে বদলি হলেও মা-কে নিয়ে তমলুক পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের (পুরনো ডিএম অফিস সংলগ্ন) একটি ভাড়া বাড়িতেই থাকতেন ওই চিকিৎসক। তাঁর মা জানান, শুক্রবার সকালে অন্যান্য দিনের মতোই কাজে বেরিয়েছিলেন শালিনী। সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ প্রথমে যান মহিষাদলের একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে, তারপর তমলুকের আরেকটি বেসরকারি নার্সিংহোমে।
এরপর সকাল ১১টা নাগাদ বাড়ি ফেরেন। ফিরেই অসুস্থ বোধ করতে শুরু করেন। তাঁর মা জানান, তখন মেয়ের হাতে চ্যানেল করা ছিল, অথচ সকালে বেরোনোর সময় তা ছিল না। সেই চ্যানেল থেকেই রক্ত চুঁইয়ে পড়ছিল বলে দাবি করেন প্রৌঢ়া। কিছুক্ষণের মধ্যেই শালিনী মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানান্তরিত করা হয় তমলুক হাসপাতালে। পরে সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। কীভাবে বা কেন তাঁর হাতে চ্যানেল লাগানো হয়েছিল, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না তাঁর মা, বুঝতেও পারছেন না। অসুস্থ ছিলেন, এমন কিছুও বোঝা যায়নি সকালে, জানান পুলিশকে।
এমনভাবে হঠাৎ মৃত্যু হওয়ায় স্বভাবতই উঠেছে একাধিক প্রশ্ন। পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, সুস্থ অবস্থায় কাজে বেরিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কীভাবে এমন পরিণতি হল, তা স্পষ্ট নয়। দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে তমলুক থানার পুলিশ।
কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার ডাঃ অরূপ রতন করন জানিয়েছেন, মহকুমা হাসপাতালে একজন ডাক্তারবাবু অসুস্থ হওয়ায় তাঁর পরিবর্তে ডাঃ শালিনী দাস নন্দীগ্রাম স্বাস্থ্য জেলা থেকে ডেপুটেশনে এসেছিলেন কাজ করতে।
এনিয়ে আরজি করের প্রতিবাদী জুনিয়র ডাক্তার অনিকেত মাহাত এক বেসরকারি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিজের কাছে ভাল থাকা ক্রমশ কঠিন হয়ে আসছে। সচেতন হওয়া উচিত সকলের।