দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলের পর থেকে অশান্ত হয়ে ওঠে মহেশতলা।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 14 June 2025 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহেশতলায় (Maheshtala) ক্ষতিগ্রস্ত দোকান ও পরিবারগুলিকে সব ধরনের সাহায্য করতে হবে। স্থানীয় সাংসদ তথা দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) এই নির্দেশ পাওয়ার পরই শনিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং দোকানগুলির তালিকা তৈরি শুরু করলেন দলের কর্মীরা।
সূত্রের খবর, এ ব্যাপারে একজনও যেন যথাযথ সাহায্য থেকে বঞ্চিত না হন, তা স্পষ্ট করে দলের কর্মীদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি অক্ষুন্ন রাখার বার্তাও দেওয়া হচ্ছে।
দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে বুধবার বিকেলের পর থেকে অশান্ত হয়ে ওঠে মহেশতলা। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে গোলমালের পরিস্থিতি তৈরি হয়। বেশ কয়েকটি দোকান ও বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়। খবর পেয়ে পরিস্থিতি সামলাতে গেলে পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ে উন্মত্ত জনতা। তাতে জখম হয় একাধিক পুলিশ কর্মী। প্রায় গভীর রাত পর্যন্ত ওই এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল।
মহেশতলার অশান্তির ঘটনায় বৃহস্পতিবারই কলকাতা পুলিশ ও রাজ্য পুলিশ মোট সাতটি মামলা দায়ের করে। গ্রেফতার করা হয় ৪০ জনকে। তবে বৃহস্পতিবার রাজ্য পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে জানান হয়, মহেশতলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তবে সেই এলাকার কিছু দূর থেকেই বিস্ফোরক সহ ৫ জনকে গ্রেফতার (Arrest) করা হয়েছে। আর এই গ্রেফতারি নিয়েই আলাদা করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে বাংলায়। শুরু হয়েছে শাসক-বিরোধী তরজা।
বুধবার রাত ৮টা নাগাদ বজবজ থানা অন্তর্গত এলাকা থেকে পুলিশ বিপুল পরিমাণে বিস্ফোরক (Explosive Metarials) গুঁড়ো উদ্ধার করে। এই ঘটনায় মোট ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, নবীন চন্দ্র রায় নামের এক যুবক রয়েছেন ধৃতদের মধ্যে। জেরার সময় ব্যক্তি স্বীকার করেছেন যে তিনি আরএসএস এবং বিজেপির সক্রিয় (BJP Worker) কর্মী। পুলিশের দাবি, রামনবমীর দিন তিনিই বাটা মোড় এলাকায় উপস্থিত ছিলেন, যেখানে মিছিলের পথ এবং ব্যারিকেড নিয়ে ঝামেলা হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে তাঁকে পুলিশ ব্যারিকেড ছুড়তেও দেখা যায়।
এই খবর পাওয়া মাত্রই বিজেপিকে (BJP) বিঁধতে শুরু করেছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) বলেন, বিস্ফোরক সহ ধরা পড়েছেন বিজেপি-আরএসএস কর্মী। বোঝাই যাচ্ছে, বিজেপি নেতারা কী কারণে ওই এলাকায় যেতে চাইছেন। কুৎসা রটানোর পরিকল্পনা এবং ষড়যন্ত্র করছে বিজেপি বলে দাবি তাঁর। কুণালের দাবি, বিজেপিই এমন ঘটনা ঘটিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাইছে। এ ব্যাপারে দলের কর্মীদের সতর্ক থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।