একই সঙ্গে সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে মেয়েদের উদ্দেশে বলা কথা—“ওরাই ছেলেদের উস্কায়।” এই বক্তব্য কেবল লিঙ্গ বৈষম্যমূলক নয়, বরং কিশোরীদের অপরাধের উৎস হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা বলেই অনেকের মত।

প্রতীকী ছবি।
শেষ আপডেট: 14 June 2025 19:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম মেদিনীপুর: “একটা মেয়েকে পাঁচবার উদ্ধার করছি। আবার পালিয়ে যাচ্ছে, আবার নিয়ে আসছি। আপনার মেয়ে ধোয়া তুলসী পাতা? ওরাই ছেলেদের উস্কায়। না নিয়ে পালালে আত্মহত্যার হুমকি দেয়। উদ্ধার করে হোমে পাঠালে বাপ-মা আবার বাড়িতে ফিরিয়ে আনে।" শনিবার ঘাটাল থানার ওসির এমন বক্তব্য ভাইরাল হতেই শোরগোল পড়ে যায় পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটালে। যেখানে সেখানে নয়, একটি বেসরকারি স্কুলের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল থানার ওসি শঙ্খ চট্টোপাধ্যায়। একরাশ পড়ুয়া-শিক্ষক-শিক্ষিকা-অভিভাবকদের মাঝেই বেমালুম এমনই বিতর্কিত কথা বলে চলেন তিনি।
ওসির এমন বক্তব্য শুনে অনেকেই হতচকিত হয়ে যান। শিক্ষামূলক একটি শিবিরে দাঁড়িয়ে এমন মন্তব্য কেবল কিশোর-কিশোরীদের প্রতি পুলিশের দৃষ্টিভঙ্গিকেই তুলে ধরছে না, বরং এলাকায় নারী নিরাপত্তা, প্রশাসনিক মনোভাব এবং সামাজিক রুচির মানচিত্রে এক অস্বস্তিকর আলো ফেলেছে বলেই মনে করছেন সেখানে উপস্থিত বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
এখানেই না থেমে শঙ্খবাবু বলে চলেন, "ঘাটালের মতো নোংরা জায়গা আর নেই!বললে লজ্জা পাবেন—আপনারা নিজেরাই পড়ান না, আইন দিয়ে কিছু হয় না। ঘাটালে রাজনৈতিক সমস্যা হলে ডান্ডা দিয়ে কাজ হয়ে যায়।” স্কুলের আইন সচেতনতামূলক শিবিরে ঘাটাল থানার ওসির এমন বিস্ফোরক মন্তব্যে স্তম্ভিত হয়ে যান উপস্থিত মানুষজন। ঘাটালের মতো একটি সংবেদনশীল এলাকায় দাঁড়িয়ে, পুলিশের শীর্ষ আধিকারিক যখন এমন মন্তব্য করেন, তখন সেটি নিছক হতাশা, না কি প্রশাসনিক ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে সমাজকর্মী ও শিক্ষক মহলে। সব মহলে নিন্দার ঝড় উঠেছে।
যেখানে তিনি সরাসরি বলেন, “ঘাটালে রাজনৈতিক সমস্যা হলে ডান্ডা দিয়ে কাজ হয়ে যায়,”—তাতে ঘাটালের রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে পুলিশের মনোভাব নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। পুলিশের যেখানে আইন ও সংবিধানের ধারায় চলার কথা, সেখানে ‘ডান্ডা’র কথা কতটা শালীন, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। স্থানীয় এক শিক্ষকের কথায়, “ছাত্রছাত্রীদের সামনে প্রশাসনের এক প্রতিনিধির এই ভাষা প্রেরণার বদলে ভীতির জন্ম দেয়। সমস্যার গভীরে গিয়ে সমাধান না করে দায় চাপানো কোনও বিকল্প হতে পারে না।”
সবচেয়ে বিতর্ক তৈরি করেছে মেয়েদের উদ্দেশে বলা কথা—“ওরাই ছেলেদের উস্কায়।” এই বক্তব্য কেবল লিঙ্গ বৈষম্যমূলক নয়, বরং কিশোরীদের অপরাধের উৎস হিসাবে তুলে ধরার চেষ্টা বলেই অনেকের মত। এক সমাজকর্মী বলেন,“একজন পুলিশ অফিসার যদি প্রকাশ্যে এমন victim-blaming করেন, তাহলে নিপীড়িত কিশোরীদের ভরসার জায়গা কোথায় থাকবে?”
এই বিষয়ে পশ্চিম মেদিনীপুরের এসপি ধৃতিমান সরকারকে ফোন করা হলে তিনি বলেন, "বিষয়টা আমরা খতিয়ে দেখছি।" এর থেকে স্পষ্ট বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে।