বাংলার একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, আর অন্যদিকে বর্ষার আকাশ এখনও মুখচোরা।

শেষ আপডেট: 28 July 2025 17:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার একদিকে মুষলধারে বৃষ্টি, আর অন্যদিকে বর্ষার আকাশ এখনও মুখচোরা। জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে এসে দক্ষিণবঙ্গ যখন স্বাভাবিকের চেয়ে ১৬ শতাংশ বেশি বৃষ্টিতে ভিজছে, তখন উত্তরবঙ্গে দেখা দিয়েছে ৩০ শতাংশের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে আগামী কয়েকদিনের জন্য একাধিক জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর।
আবহাওয়া অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাস জানাচ্ছেন, বর্তমানে উত্তর বাংলাদেশের উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। পাশাপাশি মৌসুমী অক্ষরেখাও সক্রিয় হয়ে উঠেছে, যা পুরুলিয়ার উপর দিয়ে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এই দুইয়ের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা এখন তুঙ্গে।
কোন জেলায় কবে বৃষ্টি? তা নিয়ে স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর
আজ, সোমবার পশ্চিম বর্ধমান ও বীরভূমে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ভারী বৃষ্টি হবে পূর্ব বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনায়।
মঙ্গলবার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পশ্চিম মেদিনীপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়ায়। বুধবার ভারী বৃষ্টি হতে পারে বীরভূম, মুর্শিদাবাদ ও নদিয়া জেলায়। তবে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমবে বৃহস্পতিবার থেকে। বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি বলেছে, আজ ভারী বৃষ্টি হতে পারে কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার জেলায়। মঙ্গলবার বিক্ষিপ্ত হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বুধবার ভারী বৃষ্টি হবে মালদা, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, কোচবিহার ও আলিপুরদুয়ার এলাকায়। দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কোচবিহারে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বৃহস্পতিবার। শুক্রবার ও শনিবার বৃষ্টির দাপট আরও বাড়বে। দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে অতি ভারী বৃষ্টি এবং ভারী বৃষ্টি হতে পারে জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, কোচবিহারে।
রবিবার সর্বোচ্চ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি ও আলিপুরদুয়ারে। ভারী বৃষ্টি থেকে বাদ যাবে না কোচবিহার জেলাও।
আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ১ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে গড় বৃষ্টিপাত হয়েছে ৬৫০.৪ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক বর্ষার পরিমাণ ৫৫৮.৬ মিমি। অর্থাৎ, ১৬ শতাংশ অতিরিক্ত বৃষ্টি হয়েছে দক্ষিণবঙ্গে। বাঁকুড়া ও পুরুলিয়া পেয়েছে সবচেয়ে বেশি বর্ষা। পাশাপাশি কলকাতা, পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া ও উত্তর ২৪ পরগনাতেও বৃষ্টির পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি।
অন্যদিকে উত্তরবঙ্গে এই সময়ের মধ্যে বৃষ্টিপাত মাত্র ৬৯৪.৪ মিমি, যেখানে স্বাভাবিক হার হওয়া উচিত ছিল ৯৮৯.৭ মিমি। অর্থাৎ ৩০ শতাংশের ঘাটতি রয়েছে। মালদা ছাড়া কোনও জেলাতেই স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টি হয়নি।
দক্ষিণবঙ্গ আপাতত স্বস্তির বৃষ্টিতে ভিজলেও, উত্তরবঙ্গের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। যদিও সামনের সপ্তাহে উত্তরবঙ্গের বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে ঘাটতি পুষিয়ে উঠতে কতটা সময় লাগবে, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তা থাকছেই। আবহাওয়া দফতর সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছে দুই বাংলার বাসিন্দাদেরই।