মিঠুনের বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসের প্রসঙ্গ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট - দু’ক্ষেত্রেই ভোট-পরবর্তী হিংসার অভিযোগে বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের নাম জড়িয়েছে।

মিঠুন চক্রবর্তী
শেষ আপডেট: 21 January 2026 18:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC) জনপ্রিয় স্লোগান ‘খেলা হবে’ (Khela Hobe) - এই শব্দবন্ধকেই হাতিয়ার করে রাজ্যের শাসক দলকে সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন বিজেপি নেতা মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। সিউড়িতে দলীয় সভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, ভোট মিটলেই যে ‘খেলা’ হয়, তা সবাই জানে। এবার সেই খেলায় বিজেপিও (BJP) মাঠে নামবে।
মিঠুনের বক্তব্যে উঠে আসে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ইতিহাসের প্রসঙ্গ। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন হোক বা ২০২৪ সালের লোকসভা ভোট - দু’ক্ষেত্রেই ভোট-পরবর্তী হিংসার (Post Poll Violence) অভিযোগে বারবার তৃণমূল কংগ্রেসের নাম জড়িয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কথাই টেনে এনে বিজেপি নেতা বলেন, একতরফা খেলা আর চলবে না। এবার দু’দলই মাঠে নামবে এবং সঠিক সময়ে সুযোগ নিয়ে গোল করে দেবে বিজেপি - এমনটাই তাঁর দাবি।
ফুটবলের উপমায় মোড়া এই রাজনৈতিক বার্তায় তৃণমূলের ‘খেলা হবে’ স্লোগানকে উল্টে দিতে চেয়েছেন মিঠুন। তাঁর কটাক্ষ, ‘‘এক টিম নিয়ে খেলা হয় না। এবার দু’জনেই খেলব। আর ঠিক সময়ে পেনাল্টিতে বল বসিয়ে টুক করে গোল করে দেব।’’
রাজ্য রাজনীতিতে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ‘আঁতাত’ বা গোপন সমঝোতার যে আলোচনা মাঝেমধ্যেই শোনা যায়, তাকেও সরাসরি খারিজ করেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। তাঁর কথায়, এই ধরনের জল্পনা সম্পূর্ণ মিথ্যে এবং মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যই ছড়ানো হয়। বিজেপি নেতা স্পষ্ট করেন, তৃণমূলের সঙ্গে কোনও রকম ‘সেটিং’ নেই, ভবিষ্যতেও হবে না। এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘‘দশভূজার মতো গোলকিপার হয়ে দাঁড়ালেও পায়ের ফাঁক দিয়ে গোল করে দেব।’’
এদিনের বক্তৃতায় রাজনৈতিক হুঁশিয়ারির পাশাপাশি উঠে আসে আইপ্যাক ও ইডি অভিযান (I-PAC ED Raid) সংক্রান্ত বিতর্কও। আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি হানার দিন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee) উপস্থিতি এবং তাঁর হাতে থাকা একটি ‘সবুজ ফাইল’ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে। সেই বিতর্কে নতুন করে আগুন জ্বালালেন মিঠুন চক্রবর্তী।
তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ইডি আসন্ন নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতাতে এসেছিল এবং সেগুলিই উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু বিজেপির দাবি ঠিক উল্টো। মিঠুনের বক্তব্য, ওই সবুজ ফাইলে কয়লা, বালি-সহ বিভিন্ন দুর্নীতির টাকার হিসেব ছিল। কে কাকে কত টাকা দিয়েছে, কে কত টাকা নিয়েছে - এই সব তথ্য চাপা দিতেই মুখ্যমন্ত্রী ওই ফাইল সঙ্গে করে নিয়ে যান বলে তাঁর অভিযোগ।
এতেই থামেননি মিঠুন। তিনি আরও সন্দেহ প্রকাশ করেন, ওই ফাইলে তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে পরিচিত অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বা অভারতীয়দের তালিকাও থাকতে পারে। এই মন্তব্যে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
ভোট যত এগোচ্ছে, ততই আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের সুর চড়ছে রাজ্য রাজনীতিতে। সিউড়ির সভা থেকে মিঠুন চক্রবর্তীর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল - আসন্ন নির্বাচনের লড়াই শুধু স্লোগানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, তা রাজনৈতিক ময়দানে আরও তীব্র সংঘাতে গড়াতে চলেছে।