কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, “মাতৃশক্তি আজ লাঞ্চিত ও আক্রান্ত। অত্যাচার এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা ব্রিটিশ আমলেও দেখা যায়নি।”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 14:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আশাকর্মীদের (ASHA workers) ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগে সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। বুধবার কলকাতা ও জেলায় জেলায় আশাকর্মীদের আন্দোলন ঘিরে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার জন্য রাজ্য সরকারকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি। শুভেন্দুর কড়া মন্তব্য, “যেভাবে আশাকর্মীদের ওপর অত্যাচার চালানো হয়েছে, তাতে স্পষ্ট—রাজ্যে বর্বর সরকার চলছে, অমানবিক প্রশাসন।”
এখানেই থামেননি বিরোধী দলনেতা। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যে গণতন্ত্র কার্যত বিপন্ন। কটাক্ষের সুরে শুভেন্দু বলেন, “মাতৃশক্তি আজ লাঞ্চিত ও আক্রান্ত। অত্যাচার এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যা ব্রিটিশ আমলেও দেখা যায়নি।”
এদিন আশাকর্মীদের পূর্বনির্ধারিত স্বাস্থ্য ভবন অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই কলকাতা কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। শহরের পাশাপাশি একাধিক রাজ্য সড়কেও যান চলাচল ব্যাহত হয়। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি দমনে পুলিশকে সামনে রেখে ‘রোলার’ চালিয়েছে সরকার। ধরপাকড়, গ্রেফতারি ও হুমকি-হয়রানির প্রতিবাদেই এবার রাজ্যজুড়ে আন্দোলন আরও তীব্র করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আশাকর্মীরা।
এই আবহে আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে রাজনৈতিক ফাঁদে পা না দেওয়ার বার্তা দেন রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তাঁর বক্তব্য, “আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি। কিন্তু কেউ কেউ রাজনৈতিকভাবে আপনাদের ব্যবহার করতে চাইছে। সেই ফাঁদে পা দেবেন না।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে কেউ কেউ আশা কর্মীদের কাছ থেকে চাঁদা তুলছে বলেও তিনি শুনেছেন।
মন্ত্রীর এই মন্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায় আশা কর্মী সংগঠন। রাজ্য আশা কর্মী ইউনিয়নের সম্পাদিকা ইসমাত আরা খাতুন পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের ওপর যেভাবে পুলিশি দমন, হুমকি ও গ্রেফতার চলছে, তার যোগ্য জবাব এবারের ভোটেই দেওয়া হবে।”
এদিকে আন্দোলন ঠেকাতে স্বাস্থ্য ভবন চত্বর কার্যত পুলিশি দুর্গে পরিণত করা হয়। বড় বড় লোহার ও অ্যালুমিনিয়াম ব্যারিকেডে ঘিরে ফেলা হয় গোটা এলাকা। মোতায়েন করা হয় বিপুল পুলিশ ও র্যাফ। সকাল থেকেই কোথাও জমায়েত করতে দেওয়া হয়নি। আন্দোলনকারীদের দেখামাত্রই আটক করে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়।
আশাকর্মীদের অভিযোগ, বৈঠকের আশ্বাস দিয়ে পরিকল্পিতভাবে তাঁদের দমন করা হয়েছে। ইসমাত আরা খাতুন জানান, ১৫ তারিখ স্বাস্থ্য দফতরের কাছে সময় চাইলে ২১ তারিখ আসতে বলা হয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই কর্মসূচি নেওয়া হয়। অথচ মঙ্গলবার রাত থেকেই পুলিশের বাধা শুরু হয়।
শুধু কলকাতা নয়, জেলা স্তর থেকেই আন্দোলনকারীদের আটকে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন স্টেশনে ট্রেন ধরার আগেই বহু আশাকর্মীকে আটক করা হয়। মেদিনীপুর ও বর্ধমানে বাস ও ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। মেদিনীপুর স্টেশনে বাধার প্রতিবাদে রেললাইনে শুয়ে পড়ে বিক্ষোভ দেখান কর্মীরা। গৌড় এক্সপ্রেস-সহ একাধিক ট্রেনে উঠতেও বাধা দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
যাঁরা পুলিশের বাধা পেরিয়ে কলকাতায় পৌঁছাতে পেরেছিলেন, তাঁরা শিয়ালদহ স্টেশন চত্বরে জমায়েত করেন। সেখানে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পর শিয়ালদহেই অবস্থান বিক্ষোভে বসেন আন্দোলনকারীরা। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নিত্যযাত্রীরা।
অন্যদিকে প্রশাসনের দাবি, বুধবার ডেপুটেশনে না আসার কথা আগেই জানানো হয়েছিল। তা উপেক্ষা করে পরিকল্পিতভাবে অশান্তি তৈরির চেষ্টা হওয়ায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই কড়া ব্যবস্থা নিতে হয়েছে।