আগাম জামিন মঞ্জুর হলেও নির্দিষ্ট কিছু শর্ত তাঁকে মানতেই হবে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে ইডির বিশেষ আদালত।

মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা
শেষ আপডেট: 6 September 2025 16:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রাথমিকের নিয়োগ দুর্নীতি (Recruitment Scam) সংক্রান্ত মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিলেন রাজ্যের কারা এবং ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহা (Chandranath Sinha)। সেই আত্মসমর্পণের পরপরই ব্যক্তিগত ১০ হাজার টাকার বন্ডে মঞ্জুর হল তাঁর আগাম জামিন। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত তাঁকে মানতেই হবে, সেই বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে ইডির বিশেষ আদালত।
ইডি (ED) চন্দ্রনাথ সিনহাকে হেফাজতে নেওয়ার অনুমতি চেয়েছিল। তা মঞ্জুর হয়নি। তবে বিশেষ নির্দেশ এবং নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে আদালত।
শর্ত, জামিন মঞ্জুর হলেও নিজের বিধানসভা কেন্দ্র এবং কলকাতার বাইরে কোথাও যেতে পারবেন না চন্দ্রনাথ। তদন্তে সহযোগিতা করতে হবে তাঁকে। যত দিন না এই মামলার শুনানি শেষ হচ্ছে, তত দিন এই নিষেধাজ্ঞা জারি থাকবে।
শনিবার ইডি আদালতে জানায় সাক্ষীদের প্রভাবিত করছেন চন্দ্রনাথ। এরপরই মন্ত্রীর আইনজীবী এক সপ্তাহ সময় দেওয়ার আবেদন চেয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত জানায়, আগামী শুক্রবারের মধ্যে ইডি-র আবেদনের প্রেক্ষিতে জবাব দিতে হবে মন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিনহাকে। মামলার পরবর্তী শুনানি ১৬ সেপ্টেম্বর।
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় আরও গভীর সমস্যায় জড়িয়ে পড়লেন রাজ্যের মন্ত্রী (Minister) এবং বোলপুরের তৃণমূল বিধায়ক চন্দ্রনাথ। দীর্ঘদিন ধরে ইডির নজরে থাকা এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে চার্জশিট আগেই জমা পড়েছিল, তবে রাজ্যপালের অনুমোদন না থাকায় তা আদালতে গৃহীত হয়নি। গত বুধবার রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দেন।
এর পরেই ইডির বিশেষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মন্ত্রীকে হাজিরা দিতে হবে। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আত্মসমর্পণ করা বাধ্যতামূলক। আদালতের নির্দেশ অমান্য করলে বড়সড় বিপদে পড়তে পারেন তিনি। এমন পরিস্থিতিতে মন্ত্রী নিজেই জানান, কাগজপত্র হাতে এলে আত্মসমর্পণ ও জামিনের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করবেন। সেই মতোই শনিবার ইডির আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন তিনি।
ইডি সূত্রে খবর, চন্দ্রনাথের বাড়িতে একাধিকবার অভিযান চালানো হয়েছিল। সেখান থেকে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা উদ্ধার হয়, যার কোনও পরিষ্কার ব্যাখ্যা তিনি দিতে পারেননি। তদন্তকারীদের দাবি, ২০১৬ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে তাঁর অ্যাকাউন্টে অন্তত দেড় কোটি টাকার অস্বচ্ছ লেনদেনের প্রমাণ মিলেছে।
রাজভবন যেই বিচারপ্রক্রিয়া চালানোর অনুমতি দেয়, স্বাভাবিকভাবেই অস্বস্তিতে পড়ে শাসকদল তৃণমূল। কারণ, বর্তমানে মন্ত্রিসভায় থাকা অবস্থায়ই চার্জশিটভুক্ত হয়েছেন চন্দ্রনাথ। এর আগে প্রাক্তন ও বর্তমান একাধিক নেতামন্ত্রী দুর্নীতি মামলায় কেন্দ্রীয় সংস্থার তদন্তে জড়িয়েছেন। এ বার কারামন্ত্রীকেও আত্মসমর্পণ করতেই হল।